ঢাকাশুক্রবার , ২৯ অক্টোবর ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিমান করে ২৮ বছর নিরুদ্দেশ বাচ্চু: ফিরে এসেও থাকছেন না স্ত্রীর সাথে!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
অক্টোবর ২৯, ২০২১ ২:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার বাসিন্দা বাচ্চু মন্ডল। স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে ৩৬ বছর বয়সে বাড়ি ছাড়েন। বাসযোগে চলে যান যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নে। সেখানকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মিলেমিশে দীর্ঘ ২৮ বছর বসবাস করেছেন। কেউ তার ঠিকানা না জানলেও তাকে বেশ ভালোবাসতেন। সবাই তাকে বাচ্চু ভাই বলে ডাকতেন।

অবশেষে তার সন্ধান পাওয়ার পর অভিমান ভাঙিয়ে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা। অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিলের মধ্যস্ততায় মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাচ্চু মন্ডলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাচ্চু মন্ডল বলেন, স্ত্রী জাহেদা বেগমের ওপর অভিমান করে ৩৬ বছর বয়সে আমি বাড়ি থেকে বেরি হই। বিভিন্ন যানবাহনে করে যশোর মণিহার সিনেমা হলের সামনে পৌঁছাই। সেখান থেকে অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজার হয়ে সুন্দলী ইউনিয়নের সুন্দলী বাজারে পৌঁছালে রাত হয়ে যায়। এ সময় ওই ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের নগেন্দ্রনাথ রায় আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে খাওয়া-থাকার শর্তে তার কৃষিজমি ও বাড়ির কাজ করতে শুরু করি। তিনি বছর পর ওই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মুকুন্দ মল্লিক আমাকে তার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন। সেখানে দু’বছর থাকার পর একই গ্রামের চারু মল্লিকের বাড়িতে চলে যাই।

বাচ্চু মন্ডল আরও বলেন, ২০০৬ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাচ্চু পরিবহন লেখা একটি ভ্যান আমাকে উপহার দেন। যে ভ্যান চালিয়ে আমি জীবিকা নির্বাহ শুরু করি। পরে আমাকে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ দেওয়া হয়। সে সময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শেখর বিশ্বাস আমাকে তার বাড়িতে থাকতে দেন। ২০১০ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বসবাসের সুযোগ দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। সেই থেকে অদ্যাবধি আমার ঘরবাড়ি সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদ।

দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জল মুছে বাচ্চু মন্ডল বলেন, আমার মা-বাবা দুজনের কেউ বেঁচে নেই। চার ভাইয়ের মধ্যে আমি সেজো। স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-বন্ধুদের ফেলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি সনাতন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি। এ ইউনিয়নে ৯৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা আমাকে তাদের ভাই হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে। থাকতে দিয়েছে, ভালো খেতে দিয়েছে, ভালো ব্যবহার করেছে। কখনও অন্য ধর্মের মানুষ হিসেবে আমাকে ঘৃণা করেনি। আমি সুন্দলী ইউনিয়নবাসীর কাছে ঋণী।

বাড়ি ফিরে গেলেও অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নে সপরিবারে বেড়াতে আসবেন বলেও জানান।

বাচ্চু মন্ডলের ভাইয়ের ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, চাচা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খুঁজেছি। এক পর্যায়ে চাচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আমাদের এলাকার গ্রাম পুলিশ অসিত বিশ্বাসের মাধ্যমে চাচার সন্ধান মেলে। রাতেই চাচাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, চাচি অন্তঃসত্ত্বা থাকতে চাচা নিখোঁজ হয়েছিলেন। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম নামে চাচার একটি ছেলে আছে। তার বয়স এখন প্রায় ২৭ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা চাচাকে নিয়ে যাচ্ছি। এ এলাকার মানুষ সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, বাচ্চু মন্ডলের পরিবার আছে এমন কথা তিনি কোনো দিন কাউকে বলেননি। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি আমাদের ইউনিয়নে আছেন। ২০১০ সাল থেকে পরিষদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন। খুব ভালো মনের মানুষ তিনি। সবাই তাকে বাচ্চু ভাই বলে ডাকতো। তবে ২৮ বছর পর মানুষটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন