ঢাকাশনিবার , ১৯ মার্চ ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসহায় বৃদ্ধার ঠাঁই রান্না ঘরে; প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অধিকাংশ ঘরে লোহার তালা!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মার্চ ১৯, ২০২২ ২:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাটঃ কেউ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষনা বাস্তবায়ন করতেই আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। লালমনিরহাটের আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরে কেউ থাকছেন না। অপর দিকে বরাদ্ধ না পেয়ে অসহায় বৃদ্ধা থাকেন সেই প্রকল্পের রান্না ঘরে। সুফল ভোগীদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়মের কারনে প্রকৃত অসহায় ও ভুমিহীনরা বঞ্চিত হয়েছেন। যাদের ঘর বাড়ি বা সম্পদ রয়েছে এমন লোকদের নামে ঘর বরাদ্ধ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এসব সুফলভোগী জমির দলিল আর ঘরে চাবি নিলেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে আসেননি। জানা গেছে, কেউ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষনা বাস্তবায়ন করতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ গ্রহন করে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় সরকারী খাস জমি চিহ্ণিত করে সেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য বারান্দা বিশিষ্ট দুই কক্ষের পাকা ঘর, কিচেন ও টয়লেট নির্মাণে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। ঘরের পাশে রাখা হয় সবজি বাগান করার মত সামান্য ফাঁকা জমিও। যেখানে সবজির বাগান করবে সুফল ভোগীরা। ঘর নির্মাণ শেষ হলে সুফলভোগীদের তালিকা তৈরী করে তাদের হাতে দুই শতাংশ জমির দলিল আর ঘরের চাবি বুঝে দেয়া হয়।

সুফলভোগীর তালিকা প্রনয়নে ভুমিহীন ও প্রকৃত অসহায়দের গুরুত্ব দেয়ার কথা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে বঞ্চিত থাকছেন প্রকৃত অসহায়রা। অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণির অসাধু জনপ্রতিনিধি তালিকা প্রনায়নে স্বজনপ্রীতির করেছেন। যাদের জমি বা থাকবার মত ঘর বাড়ি রয়েছে। এমন লোকদের নামে ঘর বরাদ্ধ দেয়ায়। তারা জমির দলিল আর ঘরের চাবি বুঝে নিলেও বাস্তবে কখনই আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে আসেননি। ফলে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশির ভাগ ঘরেই জন্ম থেকে তালা ঝুলছে। ফলে অপরাধিদের অভায়াশ্রমে পরিনত হচ্ছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো।

আদিতমারী উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় গত বছর নির্মান করা আশ্রয়নে ৪২টি পরিবারের মধ্যে ৫টি পরিবার একদিনের জন্যও আসেননি তাদের নামে বরাদ্ধকৃত ঘরে। অপর দিকে অসহায় বৃদ্ধা নয়াবিবি(৮০) থাকেন তার মেয়ে জামাইয়ের নামে বরাদ্ধকৃত ঘরের রান্না ঘরে। তার ছেলে সন্তান নেই, নেই কোন বাড়ি বা জমি। সরকারী ঘর বরাদ্ধ চেয়েও পাননি। তাই নিরুপায় বৃদ্ধা নয়াবিবির আশ্রয় হয়েছে রান্না ঘরে। নয়াবিবি বলেন, মোর থাকবার ঘর নাই। তাই কষ্ট হইলেও বেটির(মেয়ের) ঘরের পায়খানায় থাকোং। মেলা(অনেক) ঘর ফাঁকা আছে। একনা(একটা) ঘর মোক(আমাকে) নিয়া দেন বাপু। বুড়া মানুষ। কেনটে যাইম।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে পুর্ব বিছনদৈ গ্রামে ৫৯টি পরিবারের জন্য একটি আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে উঠে। সেখানে ৫৯টি পরিবার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে থাকেন মাত্র ২৪/২৫টি পরিবার। বাকীরা চাবি আর দলিল নিলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে এক বছরে একদিনও আসেননি। জমি আর ঘরের মালিকানা নিতেই তারা সুফলভোগী হয়েছেন। বাস্তবে তাদের জমি ও ঘর বাড়ি থাকায় সেখানেই বসবাস করেন। কেউ কেউ মাঝে মধ্যে এসে ঘর দেখে চলে যান। তবে অধিকাংশ ঘরে জন্ম থেকেই ঝুলছে তালা। নিজের কোন জমি বা ঘর না থাকায় ঢাকা ফেরত রিক্সা চালক পুর্ব বিছনদৈ গ্রামের রিক্সা চালক আজিজুল ইসলাম থাকেন এ আশ্রয়নের ২৮ নং মোজাম্মেলের ঘরে। মোজাম্মেলের নিজেস্ব বাড়ি থাকায় পরিত্যাক্ত ছিল আশ্রয়নের ঘরটি। তাকে অনুরোধ করে আপাতত পরিবার নিয়ে থাকছেন আজিজুল। তার মত আরও কয়েকজন অসহায় এভাবেই অন্যের বরাদ্ধকৃত ঘরে থাকেন। আর সরকারী খাতার সুফলভোগীরা জমির দলিল আর ঘরের চাবি বুঝে নিয়ে থাকেন পুর্বের বাড়িতে। সুফল ভোগী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের কারনে আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরে জন্ম থেকেই তালা ঝুলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পে কাংখিত সাফল্য আসছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

এমনই অবস্থা হাতীবান্ধার সিন্দুর্না আশ্রয়ন প্রকল্পে। সেখানে প্রায় একশত ঘর করা হলেও বাস্তবে ৩০-৩৫টি পরিবার বসবাস করেন। শুধু হাতীবান্ধা বা আদিতমারী উপজেলায় নয়। এমন চিত্র গোটা জেলার সকল আশ্রয়ন প্রকল্পে।

মিলন বাজার আশ্রয়নের আমিনা বেগম বলেন, যেসব ঘরে তালা ঝুলছে। তারা কখনই আসেননি। গত একবছরে তাদের চেহারাও আমরা দেখতে পাইনি। অথচ অনেকেই থাকার ঘর না পেয়ে নয়াবিবির মত টয়লেট আর বারাদ্ধায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যারা আশ্রয়নের ঘরে থাকেন না তাদের বরাদ্ধ বাতিল করে প্রকৃত অসহায়দের দেয়া হোক। নয়তো বরাদ্ধকৃতদের চাপ দিয়ে ঘরে থাকার জন্য বাধ্য করা হোক। যেসব ঘরে কেউ থাকে না। সেসব ঘরের পাশে রাতে বহিরাহতরা মাতলামো করে। যা বসবাসকারীদের জন্য ভয়ের কারন।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী বর্মকর্তা(ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ পরিবার নিয়ে ঢাকা চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের জন্য বসবাস করেন। তাই হয়তো কিছু ঘরে তালা ঝুলতে পারে। তবে এলাকায় থেকেও যারা আশ্রয়নে থাকছেন না। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন