ঢাকাবুধবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যাবসায়ীর দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট।। লালমনিরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি দোকান ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপনের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার মোস্তফিরহাট বাজারে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে আ’লীগ নেতা ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনের ছেলে রুজহান মোস্তফা ও স্থানীয় বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা রোকনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে এসে স্থানীয় সবজি ব্যাবসায়ী এরশাদের দোকান ও গালামাল ব্যাবসায়ী উজ্জলের টিন দিয়ে ঘেরা একটি গোডাউন ভাঙচুর করে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তারা সটকে পড়েন। স্থানীয় এই দুই ব্যাবসায়ীর দাবি কোনো প্রকার পূর্ব শত্রুতা না থাকলেও তারা আমাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এর আগে তারা লালমনিরহাট-বুড়িমারি মহাসড়ক আধঘন্টা যাবৎ অবরোধ করেন।

জানা গেছে, গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ নেতা স্বপন ও আ’লীগ নেতা টোটনের প্রতিদ্বন্ধিতা হয়। স্বপন জেলা আওয়ামীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারনে বিভিন্ন সময়ে টোটন সমর্থকেরা স্বপন সমর্থকদের রোসানলে পড়ে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগান আ’লীগ নেতা স্বপন। সম্প্রতি ক্ষুদ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্বপনের সামনেই টোটনের এক সমর্থককে মারধর করেন স্থানীয় বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা রোকন।
আ’লীগ নেতা আব্দুর রশিদ সরকার টোটন বলেন, সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের দোকান থেকে স্থানীয় দিনমজুর আব্দুল খালেক কিছু মালামাল ক্রয় করে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে গোকুন্ডা ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ডের বহিঃস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা রোকন ও তার সাথে থাকা কয়েকজন ছেলে নিয়ে রাস্তায় তার ব্যাগ তল্লাশি করেন। এরপর ওই দিনমজুর খালেক তাৎখনিক যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে বিষয়টি অবগত করেন। তারপর জাহাঙ্গীর তার সাথে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে রোকনকে চর থাপ্পর মেরে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি কারনে তার ব্যাগ তল্লাশি করবে, তুমি কি প্রশাসনের লোক। এরপর রোকন তার লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সোমবার মোস্তফি বাস স্টান্ডে আসেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বপন। আগেরদিন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরের সাথে থাকার অপরাধে মাহবুব নামের একজনকে চেয়ারম্যান স্বপনের সামনেই মারধর করেন রোকন গং। এরপর মাহবুব চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পরদিন মঙ্গলবার রিলিজ নিয়ে বাসার দিকে আসলে মন্ডলেরহাট বাজার নামক একটি স্থানে তার গাড়ি আটকিয়ে রোকনের নেতৃত্বে আবারও মারধর করা হয় মাহবুবকে। এরপর স্থানীয় লোকজন রোকনের সাথে থাকা মাসুদের বাবা রফিকুল ইসলামকে ঘটনার সম্পর্কে অবগত করলে তারা আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এর কিছুক্ষন পর চেয়ারম্যান স্বপনের ছেলে রুজহান মোস্তফা ও রোকনের নেতৃত্বে মোস্তফি বাজারের দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। তবে তারা যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের দোকান ভাঙচুর করার উদ্দেশ্য আসলেও ভুলবশত উজ্জল নামের আরেক ব্যাবসায়ীর গোডাউন ভাঙচুর করে।
সবজি ব্যাবসায়ী এরশাদ বলেন, ভাঙচুর করার সময় আমি দোকানে ছিলাম না। দোকান বন্ধ ছিলো। তারা আমার দোকান ভাঙচুর করে এবং আমার স্ত্রীর উপরও আক্রমন করার চেষ্ঠা করে।

গোডাউন মালিক উজ্জল বলেন, তাদের সাথে আমাদের কোনো পূর্ব শত্রুতা নেই। কেনো তারা আমাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করলো তা জানিনা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

লালমনিরহাট সদর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে অফিসার ইনচার্জ নিজেই গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহা আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনন।

আপনার মন্তব্য লিখুন