ঢাকাসোমবার , ৯ জানুয়ারি ২০২৩
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে বেতন পেলেন না অর্ধশত কর্মচারী!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক,লালমনিরহাটঃ মাস শেষ হওয়ার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও বেতন পাননি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫৩জন কর্মকর্তা কর্মচারী। বেতন না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মানুষের দোড় গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করে সরকার। সেখানে তিন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন। যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও অফিস স্টাফ, অপরটি সেবিকা এবং অন্যটি মাঠ পর্যয়ে টিকাদান কর্মসুচি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা কর্মচারী। এদের মধ্যে শুধু চিকিৎসক আর অফিস স্টাফরা চলতি মাসের বেতন ভাতা যথা সময়ে পেয়েছেন। বাকী দুইটি স্তরের ৫৩জন কর্মকর্তা কর্মচারী চলতি মাসের ৯ম দিনএ ডিসেম্বর মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারেননি।

কর্মচারীরা জানান, সরকার যথা সময়ে কর্মচারীদের বেতন ভাতা পৌছে দিলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলীকৃত সাবেক কর্মকর্তা ও যোগদানকৃত নতুন কর্মকর্তার মাঝে দীর্ঘ তিন মাসেও দায়িত্ব বুঝে না দেয়ায় এ সমস্যার সৃষ্ঠি হয়েছে। বিগত দুই মাস কর্মস্থলের বাহিরে থেকেও পুর্বেক কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ বেতন ভাতা ছাড় দিয়েছেন। যোগদান করেও কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন আর্থিক কাজ সম্পাদন করতে পারছেন না বর্তমান কর্মকর্তা ডা. খালেদ হোসেন। ফলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাই নয়, সার্বিক কার্যক্রমেও চরম জঠিলতায় পড়তে হচ্ছে সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের।

স্থানীয়রা জানান, নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার ডা. তৌফিক আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ ও তার বদলির দাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারন রোগী ও স্থানীয়রা। অবশেষে নানান সমালোচনার মুখে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে বদলি করেন স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার স্থলে ডা. খালেদ হোসেনকে পদায়ন করা হয়। যথানিয়মে ডা. খালেদ হোসেন গত ২ অক্টোবর আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।

যোগদানের দীর্ঘ তিন মাস অতিবাহিত হলেও তাকে দায়িত্ব বুঝে দেননি সাবেক কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদ। ফলে এ জঠিলতা তৈরী হয়। নিয়মানুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা সরকার ছাড় দিলেও অনলাইনের পিনকোড সাবেক কর্মকর্তার কাছে সংরক্ষিত থাকায় ঝুলে আছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা।

মতবে ডা. তৌফিক আহম্মেদ তিন মাস আগে কর্মস্থল ছেড়ে গেলেও গত দুই মাস বেতন ভাতা অনলাইনে তিনিই ছাড় দিয়েছেন। চলতি মাসের বেতন ভাতা শুধু মাত্র চিকিৎসক ও অফিস স্টাফদের অংশ যথা সময়ে ছাড় দিয়েছেন। আটকে দিয়েছেন মাঠ পর্যয় ও সেবিকাদের ডিসেম্বর মাসের বেতন ভাতা। ফলে এ হাসপাতালের ৫৩জন কর্মকর্তা কর্মচারী ৯ দিনেও পাননি বেতন ভাতা।

বেতন ভাতা না পেয়ে এসব কর্মকর্তা কর্মচারী পরিবার পরিজনদের নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বছরের প্রথম মাসে বেতন না পেয়ে অনেকেই তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারেননি। পড়েছেন চরম হতাশায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাঠ কর্মচারী বলেন, চিকিৎসকদের ক্ষমতা বেশি। তাদের বেতন বন্ধ করলে সারা দেশের চিকিৎসকরা ডা. তৌফিকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। তাই তাদেরকে বেতন ভাতা দিয়েছেন। আটক রেখেছেন আমাদের মত নিম্নপদের গরিব কর্মচারীদের। চিকিৎসকরা চেম্বারে রোগী দেখে আয় করেন। আমরা মাঠ কর্মচারীরা বেতনের উপর শতভাগ নির্ভরশীল। মাস শেষ হওয়ার ৯ দিন হচ্ছে। বেতন পাইনি। বাসা ভাড়া ও সন্তানদের লেখাপড়াসহ সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত নিরসনের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তারা।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ হোসেন বলেন, মাঠ পর্যয় ও নার্সদের মিলে মোট ৫৩জনের বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব হয়নি। যোগদানের তিন মাস হলেও সাবেক কর্মকর্তা দায়িত্ব বুঝে দেননি। বেতন ভাতার পিন কোডও দেননি। আমি অফিস চালালেও বিগত দুই মাস বেতন ছাড় দিয়েছেন সাবেক কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদ। চলতি মাসে কেন দিলেন না তা আমি জানি না। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু কোন সমাধান আসেনি

আপনার মন্তব্য লিখুন