ঢাকাশনিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেন ঘুম আসে না?

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২২ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লাইফ স্টাইল ডেস্কঃ ঘুম যেন এক রহস্য দ্বীপ। আবছা আলো-আঁধারে ঢাকা। ‘ঘুম ঘোরে কে আসে মনোহর?’ আবার, ‘কখনো জাগরণে যায় বিভাবরী।’

এ শরীর যার, যে জগতে এর বাস, তার যেন তেমন ভূমিকাই নেই, বিস্মৃত সে এ জগৎ সম্বন্ধে।
আমরা সবাই এমন অবস্থায় জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় কাটাই। ঘুম অবশ্য জীবনের অপরিহার্য অংশ। সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হয় আমাদের প্রতিদিন।
আমরা যখন ঘুমাই, তখন শরীরে অদ্ভুত সব ঘটনার ঘনঘটা ঘটে—আমরা কখনো অনেক দূরে চলে যাই স্বপ্নের ভুবনে—কী আশ্চর্য সফলতার সঙ্গে শরীর তখন নিজের দেখভাল নিজেই করে!

ঘুম হয় নানা স্তরে। আমরা নেমে আসি অনেক সময় গভীর ঘুমের স্তরে, হঠাৎ আমরা যখন জেগে উঠি, এ যেন ঘুমের অতল থেকে ওপরে উঠে আসা, আবার আমরা অনেক সময় থাকি নিদ্রাও জাগরণের সীমান্তে।
অনেক সময় আমাদের ঘুম হয় না। জেগে জেগে কাটে রাত। চোখের পাতা এক হয় না। দুশ্চিন্তা, অফিসের কাজ, পরীক্ষা, বিয়ে সামনে… ভালো-মন্দ অনেক কারণেই তো কাটে নির্ঘুম রাত। সারা রাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ।
বিজ্ঞানীরা বলেন, সুনিদ্রা যাতে হয়, এরও উপায় আছে। স্লিপ হাইজিন বা নিদ্রাবিধি। মন ও শরীরকে শান্ত, সতেজ ও সবল রাখে। আছে কিছু পরামর্শ, যেগুলো মানতে পারলে সুনিদ্রা হবে। কী করলে ঘুম আসবে?

 ঘুম ঘুম না এলে বিছানায় শুতে যাওয়া ঠিক নয়। ঘুম না এলে এমন কিছু করতে হয়, যাতে মন শিথিল হয়। পড়ুন একটি হালকা ধরনের বই, শুনতে পারেন নরম সুরের গান। এতে শরীর শিথিল হবে, মন যাবে অন্য কোথাও।
 ২০ মিনিট পর্যন্ত ঘুম আসছে না? তাহলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া ভালো। এমন কিছু খুঁজে নিতে হবে, যা করলে মন শিথিল হয়। বিরক্তি বা রেশ কেটে না গেলে ঘুমাতে যাবেন না।
 ঘুমানোর আগে টিভি দেখা, অফিসের কাজ করা—এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। শোবার ঘরে মৃদু আলো, তাজা ফুল রাখতে পারেন।
 শোবার ঘর হবে শান্ত, অন্ধকার কিন্তু শীতল। যেন গুহার মধ্যে শয়ন। বাদুড়ের মতো ঘুম। বাদুড় ঘুমায় ১৬ ঘণ্টা। গুহার সাপ শীতলতায় থাকে বলেই এত নিদ্রা।
 চেষ্টা করবেন একই সময়ে শুয়ে পড়তে। আবার একই সময়ে ঘুম থেকে উঠে পড়বেন। ছুটির দিনগুলোতেও এই নিয়ম মেনে চলবেন।
 ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে সতেজ লাগবে।
 দিনের বেলা না ঘুমানোই ভালো। ঘুমালেও বিকেল তিনটার পর ২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না।
 জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চললে দেখবেন ঘুম চলে আসছে।
 শোবার বিছানায় পড়া, টিভি দেখা, লেখা, ফোনে কথা বলা নয়।
 দুপুরে খাবারের পর থেকে ক্যাফেইন-জাতীয় ও পানীয় নয়। অর্থাৎ চা-কফি, চকলেট নয়।
 ধূমপান ও অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে।
 খিদেপেটে শুতে যাবেন না, আবার ভরপেটেও যাবেন না শুতে।
 নিয়মিত ব্যায়ামে ঘুম আনে। দিনে আধঘণ্টা ব্যায়াম যথেষ্ট। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা। শুতে যাওয়ার আগে আগে ব্যায়াম নয়। ব্যায়াম দিনের প্রথম দিকে বা বিকেলে।
 দিনে যত পারেন দিনের আলো লাগাবেন শরীরে, আলো যেন ঢোকে বাসগৃহে, অফিসঘরে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘুমের বড়ি সেবন ঠিক নয়৷ তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ক্ষেত্রে হতে পারে। এসবের পরও ঘুমের সমস্যা থাকে। কেবলই কি বিনিদ্র রজনী? হয়তো তা নয়। ঘুমিয়ে পড়তে যা সমস্যা। অনেকে ঘুমিয়ে পড়েন ঠিকই, কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভাঙে। বিচ্ছিরি অবস্থা, আবার ঘুমিয়ে পড়তে কষ্ট। অনেকের রাতে ঘুম হলেও ঘুম ভাঙে খুব ভোরে। আবার অনেকের রাতে ঘুমের সমস্যা নেই, কিন্তু ঘুম থেকে উঠলে মনে হয় না বিশ্রাম হয়েছে।
মাঝেমধ্যে ঘুম হলো না রাতে, নিদ্রাবিধি মেনে দেখুন। ঘুমের সমস্যা যদি হয় দীর্ঘদিনের সমস্যা, সপ্তাহে তিন-চার দিন অনিদ্রা, চলছে এ রকম তিন সপ্তাহের বেশি, দুই মাস হয়ে গেল অথচ না ঘুমানোর তেমন কোনো কারণ নেই। দিনে ঘুম ঘুম ভাব, কাজে মন বসে না, মেজাজ খিটখিটে হয়।
ক্লান্তি তো আছেই সঙ্গী হিসেবে। এমন ক্রনিক অনিদ্রার জন্য প্রয়োজন পেশাদারি পরামর্শ। চাই চিকিৎসকের সাহায্য। ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খর্ব হয়, বেড়ে যায় ডায়াবেটিস-হৃদ্রোগ হওয়ার প্রবণতা। ঘুমের সমস্যার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু সমস্যা থাকে। যেমন ঋতুবন্ধ, বিষণ্নতা। খুব ভোরে জেগে ওঠা বিষণ্নতার একটি লক্ষণও বটে। অন্যগুলো হলো রেস্টলেস লেপস সিনড্রোম আর স্লিপ অ্যাপনিয়া। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে বোবায় ধরে, মাঝেমধ্যেই শ্বাসরোধ হয়। কেউ কেউ ঘুমের মধ্যে হাঁটেন অজান্তে, এরও চিকিৎসা চাই। এমন হলে নির্ঘুম কয়েকটি রাত নয়, এ হলো অনিদ্রা রোগ। তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। ভয়ের কারণ নেই, চিকিৎসা হলে অনিদ্রা ও নিদ্রাবৈকল্য—সবই ভালো হয়।
লেখক: পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম।

আপনার মন্তব্য লিখুন