ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধার এসআই কান্ড এখন টক অব দ্যা টাউন!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সম্প্রতি গাইবান্ধা শহরের মাস্টার পাড়ায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহিনের উপর মাদক কারবারি সৈকত বাহিনীর নেক্কারজনক হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এসআই নয়ন সাহার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা নিয়েও। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সৈকত কিভাবে পুলিশের সোর্স হয়? এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

অন্যদিকে এই হামলায় শাহিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কিংবা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না হওয়ায় সৈকতকে গ্রেফতারের বিষয়টি থমকে আছে। যদিও পুলিশ বলছে সৈকতকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
আরো পড়ুনঃ সুন্দরগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ কথিত সাংবাদিক ফরহাদের বিরুদ্ধে!
জেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পুলিশ এবং মাদক ব্যবসায়ীরা পরস্পর সহযোগী হওয়ায় গাইবান্ধায় মাদকের ভয়াবহতা বেড়েই চলছে। বর্তমানে শহর এবং শহরতলীতে চলছে মাদকের অভয়ারণ্য। আর এভাবে চললে আমাদের সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যৎ জীবনে নেমে আসবে এক দুঃসহ অন্ধকার ।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা এসআই নয়ন সাহার একাধিক দুর্নীতির ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। নয়ন সাহার মেয়ে আমেরিকায়,ছেলে ঢাকায় এবং ঢাকার সুত্রাপুরে দীর্ঘদিন তার পরিবার ফ্লাটবাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার বিষয় এখন শহরের আলোচনার কেন্দ্রে বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এমন নীতিহীন অফিসার গাইবান্ধা সদর থানার দায়িত্বে থাকে কিভাবে? তার পরিবারে যে পরিমাণ খরচ হয় এ টাকার উৎস খুঁজে বের করার দাবিও জানিয়েছেন একাধিক সচেতন মানুষ।

গাইবান্ধা পৌরসভা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী জানান, গাইবান্ধা সদর থানার এসআই নয়ন সাহা আমার একটি মামলার ব্যাপারে ও আসামি ধরতে তিন দফায় সাত হাজার টাকা নিয়েছে। অথচ আসামীকে সে ধরেনি। ধরলেন না কেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান আসামির জামিন হয়েছে।

শহরের মাস্টার পাড়া এলাকার মাহফুজ নামে এক ঔষধ ব্যবসায়ী জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে আমি দোকানে কোরআন শরীফ পড়তে ছিলাম। হঠাৎ করে সদর থানার এসআই নয়নসহ আরো কয়েকজন অফিসার সিভিল পোশাকে আমার দোকানে এসে সার্চ করা শুরু করে। আমি বাধা দিতে চেষ্টা করলে তারা বলে তোর দোকানে মাদক আছে। অনেক খোঁজাখুজির পর কোন কিছু না পাওয়ায় তারা আমাকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে যায়। সেখানে কোন পরীক্ষা ছাড়াই গাঁজা সেবন করেছি এমন কথা জুরুরী বিভাগের দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের কাছ থেকে লিখে নেয়। পরে তারা আমাকে থানা হাজতে রাখে। ঐদিন মধ্য রাতে এসআই নয়ন এসে বলে দোকানের সামনে মদ খেয়ে মাতলামো করেছিস এ কথা আদালতে বলবি তাহলে কিছু জড়িমানা করে বিচারক ছেড়ে দিবে।

পরদিন আদালতে বিচারক আমাকে জিজ্ঞেস করলে আপনি মদ খেয়ে মাতলামো করেছেন কিনা? এমন প্রশ্নে আমি আদালতে সত্য কথা কলেছি, আমি মদ খাইনি এবং মাতলামো করিনি। সত্য কথা বলায় আমাকে দশদিন জেল খাঁটতে হয়েছে। বর্তমানে আমি জামিনে আছি।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার খান মোঃ সাঈদ হোসেন জসিম বলেন, গাইবান্ধা সদর থানার এসআই নয়ন সাহা আমাকে একটি মামলায় আমি সহ আমার তিন ভাইকে চার্জশিট ভুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। অথচ ওই মামলায় এজাহারে আমাদের কোন ভাইয়ের নাম ছিল না। টাকার বিনিময়ে অন্যায় ভাবে এই কাজটি তিনি করেছেন। আমি তার বিরুদ্ধে আইজিপি সহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, একজন এসআই এর বিরুদ্ধে এত বিস্তর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করি। প্রয়োজনে তদন্ত করা যেতে পারে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই নয়ন সাহার মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন,এসব বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদার রহমান বলেন, ঢাকায় তার ছেলে পড়তেই পারে কিন্তু তার মেয়ে যে আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষায় লেখাপড়া করতে গেছে কিংবা তার ফ্যামিলি ঢাকায় ফ্লাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে এ বিষয়গুলো আমার জানা নেই।
গাইবান্ধা/আরইসআর

আপনার মন্তব্য লিখুন