ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ ডিসেম্বর ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর ২০ পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে চলছে দিনরাত বালু উত্তোলনের মহোৎসব। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু লুটের বাণিজ্যে মেতেছেন স্থানীয় বালু দস্যুর সিন্ডিকেট চক্র। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বালু ব্যবসার সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় স্থানীয় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়ে বরং তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে বালু উত্তোলন কার্যক্রম। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রশাসনের ভূমিকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালির নির্মাণাধীন ব্রিজের পূর্ব পাশেই করতোয়া নদীতে ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। একটু দুরেই সমসপাড়া গ্রামেও একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার চিত্র দেখা গেছে। শুধু কাটাখালি ব্রিজ ও সমসপাড়াই নয়, করতোয়া নদীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে পুলপাড়া, চকরহিমারপুর, বগুলাগাড়ী, খলসি, কাইয়াগঞ্জ, শাকপালা, কাটাখালি, ধর্মপুর ও ফুলবাড়ি এলাকাতে। কোথাও বড় ড্রেজার মেশিন আবার কোথাও শক্তিশালী বোমা ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। নদীতে বসানো ড্রেজার মেশিনের সাথে মোটা পাইপ স্থাপন করে বালু তুলে ১ থেকে ২ কিলোমিটার দুরেও সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে করতোয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে বালু উত্তোলনের এই উৎসব। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন বৃদ্ধি ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক। অবাধে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে কাটাখালি ব্রিজ, বাঁধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াও নানা স্থাপনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু ব্যবসার সাথে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষে দুয়েকটা অভিযান চললেও বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়ে বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তোলিত এসব বালু ফসলি জমিসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বালু পরিবহণে দিনরাত শতশত ট্রাক্টর ও ড্রাম্প ট্রাক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন সড়কে। এতে বিকট শব্দ আর ধুলোবালিতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তোলিত অধিকাংশ বালু সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাণ এবং রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ছয় লেনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। নামে-বেনামী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ কতিপয় ব্যক্তিদের কাছে বালু বিক্রি করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালু ব্যবসায়ী একটি সিন্ডিকেট চক্র। তবে মহাসড়কের ছয়লেন কাজ শুরুর পর থেকেই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চিত্র বেড়েছে।

এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গত ৫ সেপ্টেম্বর ও ১৬ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুশীল চন্দ্র সরকার (সুশীল কুমার)। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়। এ ছাড়া জেলার নদীর চর সমূহ থেকে বালু সংগ্রহের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি পাঠায় সহকারী সচিব। কিন্তু জেলা প্রশাসক বালু বন্ধের পদক্ষেপে শুধু অভিযান পরিচালনায় জেল-জরিমানা এবং চর সমূহে বালু উত্তোলন সমীচীন নয় বলে মনগড়া প্রতিবেদন পাঠায় ভূমি মন্ত্রণালয়ে। মূলত প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় কোটি কোটি টাকার বালু লুটের মহোৎসবে মেতেছেন সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট। ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় অবাধে বালু উত্তোলনে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেট ভারি হলেও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে তৎপরতার কথা জানিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু সাঈদ বলেন, গত ৫ মাসে করতোয়া নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলায় বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের কাছে ৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত একটি মামলাও হয়েছে। উপজেলাজুড়েই বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও বালু উত্তোলনকারীদের থামানো যাচ্ছেনা। তবে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সচেতন মহল, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন