ঢাকারবিবার , ১৫ মে ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধায় কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মে ১৫, ২০২২ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে আছে গাইবান্ধার সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শত শত চাষিদের বোরো (ইরি) ধান। ফসলের মাঠগুলোতে পানি জমে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টিতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এখনও ৫০ শতাংশ ইরি ধান কৃষকের জমিতে রয়েছে। সেগুলো কাটার উপযোগী হলেও শ্রমিক সংকটে কাটতে পাচ্ছেন না তারা। জনপ্রতি ৭০০ -৮০০ মজুরীতেও জমির ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে ক্ষেতেই ধান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

গত শনিবার (১৪ মে) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতি নরাইল, নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি, সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিনাবাড়ি, বেতকাপা, তুলশীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। অনেকেই ধান কেটে নৌকা যোগে উঁচু জমিতে রাখছে।

কয়েকদিনের বৃষ্টি ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমে যাওয়ায় বিঘা প্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরী দিতে হচ্ছে কৃষকদের। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেত থেকে কেটে আনা ধানে পানি জমে আছে। শ্রমিক সংকটে বেশি দিন পানি জমায় ধান থেকে চারা বের হচ্ছে। খরও পচে যাচ্ছে। গো খাদ্য নিয়ে শঙ্কিত জেলার কৃষকরা।

সরোজমিনে গিয়ে জানাযায়,রাইতি নরাইল গ্রামের কৃষক রায়হান মিয়া বলেন, বৈরী আবহাওয়া হলেও এবার ধান বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়ে পানির নিচে ডুবে আছে ধান। আগে এক বিঘা জমি ধান কাটতে তিন/চার হাজার লাগত, সেখানে এখন সাত/আট হাজার টাকা বেশি লাগছে। টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। বাধ্য হয়ে কোমর পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটছি। যেটুকু আবাদ করছি, সব পানির নিচে।

এদিকে নান্দিশহর গ্রামের তারেক হাসান বলেন, এতো খরচ আর কষ্টের ফসল চোখের সামনে জমিতে পচে নষ্ট হচ্ছে। এবার বোরো (ইরি) ধান চাষ করে কৃষকের কিছুই থাকবে না। ঋণ করে এসব জমিতে ধান লাগাইছি। যেটুকু ধান পাবো, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবো না, নিজের খাদ্য মেটাবো? এমন ধান কাটা শুধু মনে সান্ত্বনা দেওয়া। অনেক কৃষকের জমির ধান পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কোন পরামর্শ বা কেউ আমাদের কাছে আসেনি। জমি চাষ করে যেন অপরাধ করেছি।

একই গ্রামের আইয়ুব আলী বলেন, নিজের জমি নাই, বর্গা চাষ করি। তিন বিঘা জমির ধান সব পানির নিচে ডুবে আছে। দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা থাকলে কিছুটা রক্ষা হত। চারদিন থেকে ডুবে আছে ধান।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ বেলাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চলতি বছরে জেলার সাত উপজেলায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে বোরো (ইরি) ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন। তবে সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে কি পরিমাণ জমির ধান ডুবে আছে তার কোন তথ্য নাই জেলা অফিসে। পানির নিচে ধান ডুবে থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানির নিচে ধান ডুবে থাকলেও কৃষক ধান কাটছে।

সরকারি কোন প্রণোদনা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গাইবান্ধা/আরইসআর

আপনার মন্তব্য লিখুন