ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ মে ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুরি করতে গিয়ে গৃহবধূকে খুন, যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মে ২৪, ২০২২ ৫:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুরের মিঠাপুকুরে চুরি করতে ঘরে ঢুকে রেহেনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা গৃহবধূকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যার দায়ে আসামি লাভলু মিয়াকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ (বিভাগীয় স্পেশাল জজ) আদালতের বিচারক মো. রেজাউল করিম এ আদেশ প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি লাভলু মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এরপরই তাকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে সেখানে প্রিজনভ্যানে করে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার শংকরপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আসামি লাভলু মিয়া পার্শ্ববর্তী শংকরপুর মধ্যপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের মা রেহেনা বেগমের বাড়িতে ঘরের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চুরির উদ্দেশ্যে ড্রয়ার খুলে মাত্র ১০০ টাকা পান। পরে লাভলু মিয়া ঘুমিয়ে থাকা রেহেনা বেগমের কানে থাকা দুটি সোনার দুল জোর করে ছিনিয়া নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এক পর্যায়ে কান থেকে দুটি দুল ছিনিয়ে নেন। এ সময় রেহেনা বেগম আসামি লাভলুকে চিনতে পেরে তার নাম ধরে ডাকতে শুরু করলে লাভলু তার সাথে থাকা বড় পাথর দিয়ে রেহেনার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তার মৃতদেহ টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির অদুরে একটি বাঁশ ঝাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহত রেহেনা বেগমের ছেলে খোরশেদ আলম নিজে বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ লাভলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ লাভলু মিয়ার নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত ২০১৬ সালের ১৫ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা প্রক্রিয়া শেষে বিচারক লাভলু মিয়াকে দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরও এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

অপরদিকে দণ্ডবিধি আইনের ৩৮০ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি লাভলু মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এদিকে সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী বিশেষ পিপি জয়নাল আবেদীন অরেঞ্জ জানান, বাদীপক্ষ ন্যায্য বিচার পেয়েছেন। তারা এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী সুলতান আহাম্মেদ শাহিন বলেন, তারা ন্যায্য বিচার পাননি। রায়ের কপি হাতে পেলে সবকিছু পর্যালোচনা করে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন