ঢাকাবুধবার , ১৭ মার্চ ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রলীগ: চলতি বছরের সাড়ে তিন মাসে ৬ জনের মৃত্যু!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মার্চ ১৭, ২০২১ ৭:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার।। বগুড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলাম খান পাঁচদিন পর মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাব থেকে পড়াশোনা শেষ করে বগুড়ায় ফিরে ছাত্রলীগে জড়ান তাকবীর ইসলাম খান। তার বাবা জহুরুল ইসলাম খান জানান, ছেলের স্বপ্ন ছিল, রাজনীতি করবে। কিন্তু সব স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। ছাত্রলীগ করতে গিয়ে ওই সংগঠনের নেতাকর্মীর হাতেই প্রাণ দিতে হলো।

শুধু তাকবীর নয়, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৬ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনায় ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগকে দেখা গেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল (১৬ মার্চ ২০২১) পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি মাসের ১ তারিখ রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ওরফে মিরুকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে একই সংগঠনের প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। পরে মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর মোল্লা মোহাম্মদ দুলাল নামে সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য বলা হয়।

গত ৭ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার আরেফিন নগরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মো. ইমন রনি (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রনি বায়েজিদ থানার আরেফিন নগর মুক্তিযোদ্ধা কলোনির নূর কাসেমের ছেলে।

রনি বায়েজীদ বোস্তামি থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। নিহত ইমন চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগ নেতা মো. আশরাফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার জন্য চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার অনুসারীদের দায়ী করেছে তাঁর স্বজনেরা।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতায় আশিকুর রহমান রোহিত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে আহত হন রোহিত। সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন তিন জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। রোহিত ওমরগনি এমইএস কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। তার বাড়ি বাকলিয়া থানার ডিসি রোডে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোহিত ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের জবানবন্দিতে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিমের গণসংযোগ থেকে ফিরছিলাম। কেডিএস গলিতে আসার পর আমার পথ রোধ করে মহিউদ্দিন। পরে অতর্কিতভাবে এসে বাবু, আকবর, শাবু ছুরিকাঘাত করে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর আনোয়ারায় ছাত্রলীগের দু-গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে আশরাফ উদ্দীন (২০) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ওইদিন রাত ৯টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার জয়কালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আশরাফ উদ্দীন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের অনুসারী। তার বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায়। থাকেন আনোয়ারায়। তাকে ছুরিকাঘাতকারী দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নয়ন সরকার বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনিও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুতারেরর অনুসারী।

কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা ও মানব পাচারকারীর গুলিতে মোহাম্মদ উসমান শিকদার (৪০) নামে ছাত্রলীগের এক নেতা প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ১ জানুয়ারি ভোর রাত সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার সময় বাড়ির সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া গ্ৰামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাবরাং ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ছাত্র রাজনীতির মূল দায়িত্ব হচ্ছে ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি করা। কিন্তু বর্তমানে বিশেষ করে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলো এটি থেকে সরে গিয়ে মাতৃ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। যার দরুন সংগঠনগুলোর মধ্যে এক ধরনের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তারা যদি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারতো, কিংবা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো তাহলে আর এ সংকটগুলো সৃষ্টি হতো না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে দলাদলি, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দেখিয়ে বরাবরই ছাত্রদের রাজনীতি বিমুখ করার প্রচেষ্টা হয়। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ছাত্র রাজনীতির দুটি ধারা বিদ্যমান। একটি ক্ষমতা ও স্বার্থকেন্দ্রিক আর অন্যটি ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য আদর্শভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পক্ষের শক্তি ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বুর্জোয়া ধারার সকল ছাত্রসংগঠন যারাই ক্ষমতাসীন হয়েছে বা ক্ষমতার ভাগীদার তারাই নিজেদের স্বার্থে এই সংঘাতে জড়ায়। এর সাথে বৃহত্তর ছাত্র সমাজের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সত্যিকারের ছাত্র রাজনীতি নয়। শিক্ষার অধিকার রক্ষাসহ দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত ছাত্র সমাজই ছাত্র রাজনীতির যথার্থ প্রতিনিধি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় এক সহ-সভাপতি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এসব ঘটনার কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু তারা সেটি নিতে পারেনি। সংগঠনের চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে কমে যেত।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারা গেছেন। এ ঘটনা ঘটছে আরও চারদিন আগের। এ সময়ের মধ্যে জড়িত কারও বহিষ্কার করা হয়নি। যখন মারা গেছেন তখন সাথে সাথে একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে মানিকগঞ্জেও একই ঘটনা ঘটেছে। তখন যদি সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে বগুড়ায় এসব করার সাহস কেউ পেত না।

আপনার মন্তব্য লিখুন