ঢাকাশুক্রবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাবা: পুলিশ হয়েও ন্যায় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন মহুয়া!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৯:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ হাসপাতালের মধ্যে বসানো হয় পুলিশি পাহারা। এসবের সঙ্গে আছে বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নানামুখী চাপ। এতে ন্যায়বিচারের আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়ে বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের চিকিৎসায় মনোযোগ দিয়েছেন মহুয়া

রাজধানীর গুলশানে মধ্যরাতে বেপরোয়া গতিতে বিএমডব্লিউ হাঁকিয়ে নারী পুলিশ সার্জেন্টের বাবা ও বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজংকে চাপা দেওয়ার ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর রাজধানীর বনানী থানা পুলিশ মামলা নিলেও এজাহারে কোনো আসামির নাম ছিল না। ফলে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সেই মামলা দায়ের করা হয়।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অনলাইন পোর্টাল আজকের পত্রিকা।

বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) মনোরঞ্জন হাজংয়ের মেয়ে মহুয়া হাজং বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন ছিল, তদন্ত করে মামলা নেওয়া হয়েছে। বাদীর অভিযোগে কোনো অভিযুক্তের নাম ছিল না।

মামলার বাদী পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগে আসামির নাম দেওয়ায় মামলাটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আবেদন করতে বলা হয়। তাই নতুন করে ৯ ডিসেম্বর এভাবে আবেদন করেন তিনি।

তবে গত রাতে তিনি জানান, মামলার তিনি তখনো কিছু জানা নেই তার। থানা থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সার্জেন্ট মহুয়ার আত্মীয় বলেন, ‘‘এত তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হলো। এতেই বোঝা যাচ্ছে এ বিচার আমরা কখনো পাব না। শুধু গণমাধ্যমের চাপের কারণে মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত বা বিচার করার জন্য নয়।’’

একই সুর নারী পুলিশ সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের কণ্ঠেও। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) থেকেই তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে নিষেধ করা হয়। হাসপাতালের মধ্যেই বসানো হয় পুলিশি পাহারা। এসবের সঙ্গে আছে বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নানামুখী চাপ। এতে ন্যায়বিচারের আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়ে বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের চিকিৎসায় মনোযোগ দিয়েছেন মহুয়া।

তিনি বলেন, ‘‘আপাতত বাবার চিকিৎসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো না। এখনো আইসিইউতেই রাখা হয়েছে।’ মনোরঞ্জন হাজংয়ের স্ত্রী বলেন, ‘ডান পা কেটে ফেলার পর বাম পা-টাও কেটে ফেলার প্রস্তুতি চলছে।’’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রাত ২টার পর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী মনোরঞ্জন হাজংকে চাপা দেয় একটি বিএমডব্লিউ। সে সময় গাড়িতে ছিলেন এক নারীসহ তিনজন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এক বিচারপতির ছেলে সাইফ হাসান। পরবর্তীতে পথচারীরা গাড়ির ড্রাইভার ও গাড়িটিকে আটক করে পুলিশে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিচারপতির ছেলে ও তার বন্ধুদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর আহত মনোরঞ্জনকে পাঠানো হয় পঙ্গু হাসপাতালে।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির ইউলুপের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মনোরঞ্জন। এ সময় হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার এসে তাকে চাপা দেয়। এতে কোমরের নিচের অংশ থেঁতলে যায় তার। হাসপাতালে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিজিবির সাবেক হাবিলদার মনোরঞ্জন হাজং। কেটে ফেলা হয়েছে তার একটি পা। ঘটনার আগের দিন করেছিলেন হার্ট অ্যাটাক। বর্তমানে তাকে বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজং তিন দফায় মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘটনার ১৪ দিনেও তার মামলা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তার অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে দ্রুততার সঙ্গে মামলা গ্রহণ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানায় মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর জোট হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বিচার লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত মামলা গ্রহণসহ নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, নারী সার্জেন্ট ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, পেশাগত জীবনে যেন কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা এবং আহত মনোরঞ্জন হাজংয়ের সুচিকিৎসার ব্যয়ভার বহনসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন