ঢাকাশনিবার , ৭ আগস্ট ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টিকায় দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া, পাননি অনেকেই

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আগস্ট ৭, ২০২১ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিদিনের বাংলাদেশ

করোনার সংক্রমণরোধে সারাদেশে চলছে গণটিকা কার্যক্রম। দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় শনিবার (০৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন জেলায় মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গণটিকা কার্যক্রম। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ অবস্থায় অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশ জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে গণটিকা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ওয়ার্ড কার্যালয়ের টোকেন ছাড়া মেলেনি করোনার টিকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মায়ের টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। ১৬ দিন হয়ে যাওয়ার পরও এসএমএস আসেনি। গণটিকার প্রথম দিন মাকে রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে সুরক্ষা অ্যাপের নিবন্ধন ফরম দেখানোর পরও টিকা দেওয়া হয়নি। নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাছিরাবাদ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। শুধু এই কেন্দ্রে নয়, নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, পৌরসভার ওয়ার্ড এবং জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৬৯টি কেন্দ্রে গণটিকা দেওয়া হচ্ছে। সদরের ঘাগড়া ইউনিয়ন কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা গৃহবধূ সালমা বলেন, আগে তো নিবন্ধন করে এসএমএস এলে টিকা দিয়েছে। এখন ঘরের কাছে সরকার টিকার ব্যবস্থা করায় খুব ভালো হয়েছে। খুব সহজে পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা পেয়েছি। খুব সুন্দরভাবে গণটিকা কার্যক্রম চলছে বলে জানান সিটি কপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএচকে দেবনাথ। তিনি বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতি টিকা কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন। এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যা হয়নি। ছয় দিন কর্মসূচি চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

বরিশাল: বরিশাল জেলা ও মহানগরীর ১৪১টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কেন্দ্রে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নগরীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। নগরীতে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারা কাউকে টিকা দেওয়া হয়নি। তবে গ্রামে রেজিস্ট্রেশন না করেই জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লিখে রেখে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। টিকা না পেয়ে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, কেউ এসএমএস পেয়ে আবার কেউ এসএমএস না পেয়েও টিকা নিতে এসেছেন। আবার কেউ আগে রেজিস্ট্রেশন না করেও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন টিকা নিতে। সার্ভার সমস্যা করায় তাদের টিকা দেয়নি সিটি করপোরেশন। নগরীর নতুনবাজার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, নগরবাসীকে টিকার আওতায় আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে সিটি করপোরেশন। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খুলনা: খুলনায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে টিকাদান কেন্দ্রে এসেছে মানুষ। কেন্দ্রে মানুষের ভিড় ছিল। তবে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। খুলনা জেলা ও মহানগরীর ৩০৭টি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। দিনভর বৃষ্টির মধ্যেই চলছিল টিকা কার্যক্রম। নগরীর ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিকা নিতে আসা আব্দুল গফ্ফার বলেন, সকালে টিকা কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বপালন করতে দেখিনি। একে অন্যের গা ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সবাইকে এক ভবনে আনার ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়নি। এরপর পরিকল্পনা নিয়ে ফাঁকা জায়গায় টিকা দেওয়া হবে।

রংপুর: রংপুরে করোনার টিকার চাহিদার তুলনায় কম দেওয়ায় দুপুর ১২টার পর শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। এ নিয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টিকার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ৮৩ ইউনিয়নের টিকা দেওয়া হচ্ছে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে আড়াইশ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে টিকা কম। এ জন্য অনেকেই পায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, প্রথম দিন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২ হাজার ২০০ জনকে মডার্নার টিকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সিনোফার্মের ৪৩ হাজার ২০০ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে সাড়ে সাতশ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ডগুলোতে ৬০০ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন