ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই হাত নেই, তবুও জীবন যুদ্ধে থেমে নেই পাবনার আলামিন!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনা প্রতিনিধিঃ সাংসারিক অসচ্ছলতার কারণে বাবার অপারগতায় বেশিদুর পর্যন্ত পড়ালেখা করা হয়নি। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই কর্মসংস্থানে যেতে হয়।

ছোট বেলা থেকেই মেধা খাটিয়ে পরিশ্রম করে বাবার সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পেরেছিলেন। ১৮ বছর বয়সে বাবা মায়ের সম্মতিতে বিয়ে করেন। বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের ঘর আলোকিত করে একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। সব মিলিয়ে সুখের সংসার গড়েছিলেন পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর বাঙ্গাবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের হায়দুল প্রামাণিকের ছেলে আলামিন হোসেন (২২)।

কিন্তু বিধি বাম। গরীবের সুখ নাকি কপালে সয়না। প্রায় দুই বছর আগে পাবনা শহরের লাইব্রেরী বাজার এলাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে শ্রমিকের কাজ করতো আলামিন। সেখানে একদিন কাজ করার সময় সিলভারের মই দোকানের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সেই মইয়ে উঠে কাজ করার মূহুর্তে দোকানের উপর দিয়ে চলমান বৈদ্যুতিক লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হয় সে। বেশ কিছু সময় বৈদ্যুতিক তাড়ে আটকে থাকায় তার হাত পা বুক ব্যাপকভাবে পুড়ে যায়। কিছু সময় পরে স্থানীয়রা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভর্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে চিকিৎসা শুরুর ১৫ দিনের মাথায় তার হাতে পচন ধরলে ডাক্তার অপারেশনের মাধ্যমে দুটি হাতই কেটে ফেলেন। এরপর সেখানে দীর্ঘ তিন মাসের চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসে আলামিন। তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়।

সংসারে চার ভাইয়ের মধ্যে আলামিন তৃতীয়। বড় ভাই অনেক আগেই বিয়ে করে পৃথক হয়ে গেছেন। মেঝ ভাই একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরী করেন এবং তিনিও সংসার থেকে পৃথক হয়ে গেছেন। তৃতীয় আলামিন এবং সব ছোট ভাই বাড়িতে থাকে এবং বাবাকে কৃষি কাজে সহায়তা করে। আলামিন বাড়ির পাশে ছোট্ট একটি বাজারে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে চা বিস্কুট সহ চকোলেট লজেন্স বিক্রি করেন। সারা দিনে দোকানে যা বিক্রি হয় তার লাভের অংশ দিয়েই চলে তার নিজের সংসার খরচ। তবে কোন ক্রেতাকে সে নিজে হাতে কোন পন্য দিতে পারেনা এবং টাকাও নিতে পারেনা। ক্রেতারাই নিজ হাতে পণ্য নিয়ে তার দোকানের ড্রয়ারে টাকা ফেলে দেন। কেউ চা খেতে চাইলে ক্রেতা নিজেই বানিয়ে নেন। এভাবেই চলছে আলামিনের মুদি/স্টল দোকান ব্যবসা।

এ বিষয়ে আলামিন হোসেন বলেন, আমার দুটি হাত নেই বলে এখন আর মনে কষ্ট পাই না। এখন মনে হয় এটা আমার নিয়তি ছিল তাই এমন হয়েছে। তবে একটি সময়ে আমার ভীষন খারাপ লাগে যখন আমার দুই বছরের মেয়েটি আমার কোলে আসতে চায় তখন আমি তাকে ভালভাবে কোলে নিতে পারিনা। তার মাথায় হাত বুলাতে পারিনা। বাড়িতে সকল কাজে যেমন- খাওয়া, কাপড় পড়া, গোসল করা সব কিছুতেই আমার স্ত্রীর সহায়তায় করতে হয়। সেও ভীষন ধৈর্যশীল একটা মেয়ে। আমার এমন দুর্দিনে সে আমাকে ফেলে যায়নি বরং সর্বসময় সহাযোগীতা করেই চলেছে।

আলামিন আরো বলেন, অর্থের অভাবে দোকানে অনেক প্রয়োজনীয় মালামাল উঠাতে পারিনি। আমাকে যদি আরেকটু স্বাবলম্বি হতে কেউ দোকানে মালামাল উঠাতে সাহায্য করতো তাহলে আর আমার মনে কোন কষ্ট থাকতো না। তাছাড়া আমার স্ত্রী সেলাইয়ের কাজও জানে। তাকেও যদি একটি সেলাই মেশিন অথবা একটি গরু, ছাগল পালনের ব্যবস্থা করতো সেটাও আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো।

আলামিনের মা অশ্রু ভেজা চোখে বলেন, আমাদের এই ছেলের কপালে এতো বড় দুঃখ লেখা ছিল সেটা কোন দিন কল্পনাও করিনি। আল্লাহ যেন কোন বাবা মাকে ছেলের এমন করুণ পরিণতি না দেখায়।

প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীন জানান, বাবার অভাবের সংসারে এই আলামিনই সাহায্যসহযোগীতা করেছে। ওর এমন পরিণতিতে আমরা প্রতিবেশীরাও ভীষন মর্মাহত। এখন ছেলেটার যদি একটা ভাল কর্ম হতো তাহলে সংসারটা আনন্দে ভরে যেত।

হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম কে আলামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন ছেলের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি ছেলেটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমার পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগীতা করবো।

আপনার মন্তব্য লিখুন