ঢাকাশুক্রবার , ১১ মার্চ ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্ঘটনা রোধে কিশোরদের হাতে বাইক নয়

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মার্চ ১১, ২০২২ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থায়ও সূচিত হয়েছে পরিবর্তন ধারা। আর এ পরিবর্তন প্রভাব বিস্তার করছে আমাদের রুচির উপর। প্রদর্শন প্রভাব কার্যকরী হওয়ায় আমরা অনুসরণ করছি একে অপরকে। নামীদামী বাইক আমাদের বাহ্যাড়ম্বর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সময় ও অর্থ বাঁচাতে কিংবা ভ্রমণে বাইকের জুড়ি নেই। বলাবাহুল্য যে, যাতায়াতের জন্য বাইক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন।

দশক তিনেক আগেও অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে ছিল মোটরবাইক যা সমাজের বিত্তবানরা ব্যবহার করতেন। সময়ের পরিক্রমায় বেড়েছে মানুষের আয়, পরিবর্তন হয়েছে রুচির। অর্থাভাবে আগে যারা বাইসাইকেলও কিনতে পারতেন না, আয়ের পরিবর্তনে তারাও কিনছেন নামীদামী বাইক। যৌতুকের অংশ হিসেবেও থাকছে বাইক। একদিকে বিভিন্ন ব্রান্ড ও মডেলের বাইক ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনি বাড়ছে বাইক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার।

এ কথা ঠিক যে, কিশোর ও যুবকদের নিকট মোটরবাইক বেশ আকর্ষণীয় একটি বাহন। বন্ধুদের সাথে নিয়ে এমন আকর্ষণীয় বাহনে চেপে ঘুরে বেড়াতে কার না মন চায়! বাবা, চাচা, মামা, দুলাভাই কিংবা বন্ধুবান্ধব বাইক যার ই হোক, চাবি হাতে পেলেই সমবয়সী বন্ধুদের নিয়ে বাইকে চড়ে দিচ্ছে ছুট। বাইক চালানোর গতি দেখে আঁতকে উঠতে হয় নিজেকে।

পরিণাম ভালো নয় জানা সত্বেও অনেক অভিভাবক সচেতন কিংবা অসচেতনভাবে তুলে দিচ্ছেন তাদের প্রিয় সন্তানটির হাতে দানবরূপী বাইকটি। দেখা যায় ১৩-১৫ বছরের কিশোর সন্তানটির হাতে বাইক দিয়ে পিছনে বসে যেতে। আবার, কখনো বা বাইক চালানো দেখে হাসতেও দেখা যায় বাবা কিংবা স্বজনদের।

রাস্তায় উঠলেই দেখা মেলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ছে এমন কিশোরদের বাইক নিয়ে ছুটে যেতে। দু’জন, তিনজন কখনো বা চারজন চড়ছে সেই বাইকে। দেখা যায়, কিশোর ও যুবকদের বাইকের সারি। চলছে হেলেদুলে, করছে গল্প, মেতে উঠছে প্রতিযোগিতায়। দ্রুতগতিতে না চালাতে পারলে যেন স্বস্তি নেই তাদের। বাইকে চলতে গিয়ে ভয়ে সাইড দিতে হচ্ছে তরুণদের। পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর।

গতকাল বাগেরহাটের মোংলায় মেলা থেকে ফেরার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লেগে ২২-২৩ বছর বয়সী ৩ বন্ধু নিহত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় লাশ নিয়ে তার আহাজারি। এমন দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা। যারা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সন্তান হারাচ্ছে মা-বাবা, বাবা হারাচ্ছে সন্তান, স্ত্রী হারাচ্ছে স্বামী। বিপর্যয় নেমে আসছে পরিবারে।আপনজন হয়ে পড়ছে অসহায়।

চলতি বছরের ৮ই জানুয়ারী রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ২০২১ সালে দেশব্যাপী ৫ হাজার ৩৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ হাজার ২৮৪ জন। আর আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৮ জন।

এরমধ্যে ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ২১৪ জন। যা মোট নিহতের ৩৫.২৩ শতাংশ। তথ্যে বলা হয়, ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮-৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৯২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৮২.৬২ শতাংশ। বছরজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তার আর্থিক মূল্য ৯ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৩ শতাংশ। ভাবা যায়!

এ থেকে উত্তরণ হতে হলে- বন্ধ করতে হবে উৎকোচের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম। যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে ট্রাফিক আইন। নিশ্চিত করতে হবে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ। গ্রহণ করতে হবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ব্যবহার করতে হবে মানসম্পন্ন হেলমেট, বন্ধ করতে হবে বাইক চালানো অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা ও হেডফোন লাগিয়ে গান শোনা। এছাড়া পরিহার করতে হবা অন্যমনস্ক হয়ে বাইক চালানো, নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে গতি, করা যাবে না ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং, করতে হবে প্রতিযোগিতা পরিহার, চালানো যাবে না হেলে-দুলে বাইক, ওঠা যাবে না দুইজনের বেশি, ও সতর্ক হতে হবে পথচারীদের। বাড়াতে হবে সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার। সর্বোপরি ধারণা দিতে হবে বাবা-মা, স্বজনদের দুর্ঘটনার কারণ ও কুফল। প্রাপ্তবয়স না হওয়া পর্যন্ত যেন কিশোরদের হাতে তুলে না দেই ‘দানবরূপী বাইক।’ তবেই হয়তো মিলবে স্বজনদের অকাল মৃত্যু থেকে মুক্তি। সেই প্রত্যাশা সবার।

লেখক: এম এ মাসুদ
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

masud.org2018@gmail.com

আপনার মন্তব্য লিখুন