ঢাকাশুক্রবার , ১২ নভেম্বর ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন বাস ভাড়ায় ফাঁকফোকর!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নভেম্বর ১২, ২০২১ ১১:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিদিনের বাংলাদেশঃ কোনটি ডিজেলচালিত আর কোনটি সিএনজিচালিত, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এখনও বাস চিহ্নিতকরণ শতভাগ সম্ভব হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারির তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। ভাড়া বাড়লেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ফাঁকফোকরে বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে সাধারণ যাত্রীরা। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন তারা। এছাড়া বিআরটিএ নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চার্ট দেখা যায়নি অনেক বাসে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি বাসে দেখা মিলেছে ভাড়ার চার্ট। পাশাপাশি বাসের সামনে লিখে রাখা হয়েছে ‘ডিজেলচালিত’।

নতুন ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণের চার্ট মালিক সমিতির নেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সেই চার্ট প্রতিটি পরিবহনে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় ভাংতি অজুহাত দেখিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে বাসের হেলপার ও চালকদের তর্ক বেঁধে যাচ্ছে। এতে করে চালকরা অনেক সময় তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের হঠাৎ ব্রেক করে ভয়-ভীতি ও দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেক যাত্রিদের

যে কারণে যাত্রীদের ক্ষোভঃ
ভাড়া পুনর্নির্ধারণের তিন দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন ভাড়ার বিষয়ে যাত্রী ও পরিবহন হেলপারদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটছে। ভাংতির অজুহাতে অনেকের কাছে থেকে ২-৩ টাকা করে বেশি রাখা হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে এবং ভাংতি না থাকায় ভাড়া আদায়ের সময় যাত্রী ও হেলপারদের মধ্যে মনোমালিন্য হচ্ছে।

যাত্রীরা বলছেন, বিআরটিএ’র উচিত ছিল যেসব জায়গায় খুচরা ভাড়া রয়েছে সেটি বিবেচনা করা। এই খুচরা ভাড়ার জন্য ঘটছে উচ্চস্বরে কথাবার্তা চিৎকার-চেঁচামেচি করতে হচ্ছে বাসের ভেতর। এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

কলেজ শিক্ষার্থী রানা সায়েন্স ল্যাব থেকে মিরপুর ১ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। সায়েন্স ল্যাব মোড়ে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সিটিং সার্ভিসের নামে লোকাল বাসে আসার সময় মিরপুর ১ নম্বর থেকে সায়েন্স ল্যাবের ভাড়া ২৪ টাকা বলে জানায় হেলপার। কিন্তু ভাংতির দোহাই দিয়ে নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা।

নিউমার্কেট থেকে মিরপুর ১ নম্বরের ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ১৯ টাকা। কিন্তু ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে রিপন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘একদিকে বাস ভাড়া বেড়েছে, তার ওপর পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে। তর্কাতর্কিতে জড়িয়েও কোনও লাভ হয় না। শুধু শুধু বাড়তি কথা বলা।’

মালিবাগ থেকে নিউমার্কেট আসা আলতাফ বলছিলেন, ‘বিআরটিএ বা পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর আগেই পেয়ে যায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখে। তখন চোর-পুলিশ খেলা চলে। আর ভোগান্তিতে পড়ি আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীরা।

ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন বলেন, ‘কোন বাস ডিজেলে আর কোন বাস সিএনজিতে চলছে তা চিহ্নিতকরণের কাজ এখনও হয়নি। সিএনজিচালিত বাসের হেলপাররাও নতুন ভাড়া নিচ্ছে। আমরা যাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ তথা সরকারের আরও নজরদারি বাড়ানো উচিত।

হোটেল ম্যানেজার কালাম বলেন, ১০-১৫ টাকার পরিবর্তে ভাড়া হয়েছে ১২-১৮ টাকা। এমন অঙ্কের ভাড়ার কারণে ভাংতির জটিলতায় বাসের হেলপাররা যাত্রীদের পকেট কাটছে। প্রত্যেককে এখন ২-৩ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে এখন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবু বলেন, নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে, ভাড়া দিচ্ছি। তবে পরিবহন চালকদের মারপ্যাঁচে বাড়তি ভাড়া থেকে রেহাই পাচ্ছি না। নতুন ভাড়ার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ হওয়ার পর বাস্তবে দেখছি ভিন্ন চিত্র। ভাড়া বাড়লেও ফাঁকফোকর থেকেই যাচ্ছে। আমাদেরও বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে পড়তে হচ্ছে।

বাস ভাড়া


কোন গন্তব্যে কত ভাড়াঃ
রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলে বাস ভাড়ার চার্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে কাওরান বাজার আসতে একজন যাত্রীকে এখন দিতে হবে ৩৮ টাকা। আগে ছিল ২৯ টাকা। মতিঝিল থেকে উত্তরা যেতে হলে এখন গুনতে হবে ৪৬ টাকা, আগে এই ভাড়া ছিল ৩৭ টাকা। শাহবাগ থেকে কলাবাগান কিংবা শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন কিংবা প্রেসক্লাব পর্যন্ত যেতে ভাড়া গুনতে হবে ১০ টাকা, আগে ছিল সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে যাত্রাবাড়ী যেতে একজন যাত্রীকে আগে পরিশোধ করতে হতো ৩৮ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকায়। ফার্মগেট থেকে ক্যান্টনমেন্ট বালুরঘাট এলাকায় যেতে এখন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা জনপ্রতি, যা আগে ছিল ১২ টাকা। নীলক্ষেত নিউমার্কেট থেকে মিরপুর ১০ নম্বর যেতে চাইলে এখন জনপ্রতি গুনতে হবে ২৫ টাকা। আর আগের ভাড়া ছিল ১৯ টাকা। মিরপুর ১ নম্বর থেকে প্রেসক্লাব যেতে এখন গুনতে হবে ২৩ টাকা, যা আগে ছিল ১৯ টাকা। আর মিরপুর কালশী কিংবা পল্লবী এলাকা থেকে প্রেসক্লাব যেতে ভাড়া পড়বে ৩৮ টাকা। পূর্বে ভাড়া ছিল ৩২ টাকা।

এছাড়া উত্তরা থেকে মিরপুর ১ নম্বর যাওয়া-আসার ভাড়া এখন জনপ্রতি ৪০ টাকা, আগে ছিল ৩২ টাকা। উত্তরা থেকে মহাখালী যেতে এখন ভাড়া লাগবে ২৫ টাকা, আগে এই রুটে ভাড়া ছিল ১৮ টাকা। পল্টন থেকে সায়েন্স ল্যাব যেতে নতুন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আগে ছিল সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। শাহবাগ থেকে গাবতলী যেতে এখন গুনতে হবে ১৪ টাকার বদলে ১৭ টাকা। টেকনিক্যাল থেকে সাভার যাওয়া-আসা করতে ২৬ টাকার বদলে এখন দিতে হবে ২৯ টাকা। মহাখালী থেকে শ্যামলী রুটে ভাড়া দাঁড়িয়েছে জনপ্রতি ১৪ টাকা, আগে যা ছিল ১০ টাকা। যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত যেতে আগেও ছিল সর্বনিম্ন ৭ টাকা, এখন সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। মগবাজার থেকে বনানী যেতে এখন গুনতে হবে জনপ্রতি ১৫ টাকা, আগে ছিল ১২ টাকা।

প্রত্যেক যাত্রীকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বাসে উত্তরা যেতে গুনতে হবে ৩৯ টাকার বদলে ৪৮ টাকা। এছাড়া কমলাপুর থেকে মহাখালী যেতে ১৭ টাকার বদলে লাগবে ২১ টাকা। গুলিস্তান থেকে কাচপুর সেতু পর্যন্ত যাওয়ার ভাড়া এখন ২৮ টাকা, আগে ছিল ২২ টাকা। গুলিস্তান থেকে মহাখালী যাওয়ার নতুন ভাড়া ১৫ টাকা, আগে ছিল ১০ টাকা। রামপুরা থেকে মালিবাগ যেতে আগে দিতে হতো ৭ টাকা, এখন লাগবে ১০ টাকা। মোহাম্মদপুর থেকে উত্তরা যেতে ৩০ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা। কাকরাইল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ যেতে ভাড়া গুনতে হবে ১০ টাকা, আগে ছিল সর্বনিম্ন ৭ টাকা। বাবুবাজার সেতু থেকে আব্দুল্লাহপুর যেতে গুনতে হচ্ছে ৫৪ টাকা, আগে ছিল ৪৪ টাকা।
আরইসআর/অনলাইন

আপনার মন্তব্য লিখুন