ঢাকাসোমবার , ১৪ জুন ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবাকে কোলের সন্তানসহ থানায় নিয়ে গেলো পুলিশ

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুন ১৪, ২০২১ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহী প্রতিনিধি | রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অসুস্থ শিশুসন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন ওমর সিদ্দিক (৩৫)। ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হওয়ায় তাকে দেখে রেগে যান হাসপাতালের আনসার সদস্যরা। কেন তিনি হাসপাতালে এসেছেন, এ নিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা লেগে যায়। এ সময় এক আনসার সদস্যের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে ওমর সিদ্দিককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ওমর সিদ্দিকের সঙ্গে ওই কোম্পানির আরও দুই প্রতিনিধিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ওমর সিদ্দিকের বাড়ি চারঘাট উপজেলার বরকতপুর গ্রামে। তিনি গ্যালাক্সি হেলথ কেয়ার লিমিটেড নামের একটি ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ওষুধ কোম্পানির ওই তিনজন প্রতিনিধি অবৈধভাবে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছিলেন। আনসার সদস্যরা নিষেধ করলে বাগবিতণ্ডায় জড়ান ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলেন। পরে তাদের নগরীর রাজপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়।

রবিবার (১৩ জুন) সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। আনসার সদস্যরা দাবি করছেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ওমর সিদ্দিক ও তার দুই সহকর্মী সেলিম রেজা ও সোহেল রানা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছিলেন। অথচ তাদের হাসপাতালে প্রবেশে গত সাত মাস থেকে নিষেধ করা হচ্ছে। কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাদের নিষেধ করলে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

তবে ভুক্তভোগী ওমর সিদ্দিক জানান, তার সন্তানের কানে চর্মরোগের সমস্যা। সকালে সন্তানকে নিয়ে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক চিকিৎসককে দেখান। তার সহকর্মী সোহেল রানাও হাসপাতালের ৩৪ নম্বর কাউন্টারে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। ছেলের চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সোহেল রানার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে আনসার সদস্যরা তাকে ওই দিকে যেতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা।

একপর্যায়ে একজন আনসার সদস্য তার গালে চড় মারেন। তখন কোলে থাকা সন্তান মাটিতে পড়ে যায়। সহকর্মী সেলিম রেজা তখন সন্তানকে মাটি থেকে টেনে তোলার পাশাপাশি চড় মারার প্রতিবাদ করলে তাকেও হেনস্তা করেন আনসার সদস্যরা। পরে তাদের হাসপাতালের পরিচালকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিচালক তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ভুক্তভোগী সোহেল রানা জানান, কয়েক দিন আগে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পাননি। তাই রবিবার তিনি ওই টিকিটে ৩৪ নম্বর কাউন্টারে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ওষুধ কোম্পানির কর্মীরা হাসপাতালে এসে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে নেন। অনেক রোগীর গোপনীয় চিকিৎসার ব্যাপার থাকে। এভাবে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলা ঠিক নয়। এজন্য তিনি আনসার সদস্যদের বিষয়টির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আনসারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে তাদের গায়ে হাত তোলেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর দুই পক্ষই তার কাছে আসে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তারা কর্তৃব্যরত আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলেছেন। তাই তাদের থানায় দেওয়া হয়েছে। পরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সিনিয়ররা এসেছিলেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা না নিতে অনুরোধ করেছেন। তাই তারাও লিখিত কোনও অভিযোগ দেননি।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আইনগত কোনও পদক্ষেপ নেবে না বলে জানিয়েছে। তারা হয়তো মীমাংসা করে নিয়েছেন। এ কারণে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন