ঢাকাশুক্রবার , ২৬ আগস্ট ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাস ভাড়ায় ঊর্ধ্বগতি, চাপ বাড়ছে ট্রেনে!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আগস্ট ২৬, ২০২২ ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ সড়ক পথে গণপরিবহনে ভাড়া বেশি হওয়ায় ট্রেন যাত্রাকেই বেছে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে যাত্রী চাপ বাড়ছে সব রুটের ট্রেনের। রাজধানী থেকে গন্তব্যে যেতে কিংবা রাজধানীমুখী সব ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে বাস ভাড়া। দূরপাল্লার বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যে চলাচল করা বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। ঢাকার আশপাশের এলাকায় চলাচল করা বাসের ক্ষেত্রে তা ১৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া আগে ছিল প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে আগে প্রতি কিলোমিটারে বড় বাসের ভাড়া ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা, এখন তা ২ টাকা ৫০ পয়সা। মিনি বাসের আগে ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

সে হিসেবে ট্রেনের তুলনায় বাস ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ। যেখানে রাজধানী থেকে দিনাজপুর বাসে যেতে নরমাল সিটের জন্য প্রত্যেক যাত্রীকে গুনতে হয় প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। এসির জন্য গুনতে হয় প্রায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। সেখানে ট্রেনে দিনাজপুর যেতে প্রত্যেক যাত্রীকে গুনতে হয় পাঁচশ টাকারও কম। এসি চেয়ারের ভাড়া প্রায় ৯০০ টাকা। শুধু উত্তরাঞ্চলেই নয়। ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে যেতে নরমাল সিটে প্রত্যেক যাত্রীকে গুনতে হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এসিতে যেতে গুনতে হয় এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকা। সেখানে ট্রেনে যেতে নরমাল সিটে যাত্রীপ্রতি গুনতে হয় প্রায় সাড়ে তিন শত থেকে চারশত টাকা। ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় এসি চেয়ারে যাওয়া যায়।

এছাড়াও আগে থেকেই সড়ক পথে তীব্র যানজট ও নানা সমস্যার কারণে ট্রেনে যাতায়াতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছিল। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে ট্রেন যাত্রাই স্বস্তি ও আরামদায়ক। সম্প্রতি বাস ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু এ অঞ্চলেই নয়, প্রায় সব রুটের মানুষদের ট্রেনে যাতায়াতের আগ্রহ আরও বেড়েছে। যার ফলে ট্রেনে যাত্রীর চাপ আাগের থেকে বেশি দেখা গেছে। সব ট্রেনই মোটামুটি ফুল সিট যাত্রী নিয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। চার-পাঁচ দিন আগেই টিকিট কাটে রাখে মানুষ। ছুটির দিন হলে তো কথাই নেই। ট্রেনের টিকিট হয়ে যায় সোনার হরিণ! শুধু রাজধানী ছাড়ার ক্ষেত্রেই নয়। রাজধানীমুখী ট্রেনগুলোতে যাত্রী চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেল স্টেশনে যার যার গন্তব্যের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। যাত্রী চাপও বেশ। সামনে ছুটির দিন না হলেও স্টেশনে যেন উপচে পড়া ভিড়। সকাল সাড়ে ৬টায় নীল সাগর এক্সপ্রেসে ট্রেনের যাত্রী সোহাগ বলেন, ‘আমি সৈয়দপুরে যাবো। আমাদের ওইদিক যেতে ট্রেনেই ভালো। আর যে হারে বাস ভাড়া বেড়েছে তাতে আমাদের মতো মানুষদের ট্রেনে না গিয়ে উপায় কী?’

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী ফারুকেরও একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমি পার্বতীপুরে যাব। পার্বতীপুরে বাসে যেতে আমাকে ৮০০-৯০০ টাকা লাগবে। সেখানে আমি ৪৪০ টাকায় ট্রেনে যেতে পারছি। যানজটের কোনো ঝামেলা নাই। আরামে যেতে পারি। মূল কথা হচ্ছে ভাড়াটা কম লাগছে।’

আরেক যাত্রী বলেন, ‘আগে নীল সাগর ট্রেনে খুব বেশি যাত্রীর চাপ ছিল না। অনেক সিট ফাঁকাই থাকত। এখন দেখি অনেক মানুষ। বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ট্রেনে বেশি মানুষ যাতায়াত করছে।’

এদিকে আগের তুলনায় ট্রেনে কিছুটা চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. মাসুদ সারোয়ার। তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় যাত্রী চাপ কিছুটা বেড়েছে। আগে তো সিট ফাঁকা থাকত, এখন ফুল সিট যাত্রী নিয়েই ট্রেন ছেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার কিংবা সামনে ছুটির দিন থাকলে বেশি চাপ থাকে। আর এখন তো বিভিন্ন ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা চলছে তাই যাত্রীর চাপ আরও বেশি।’

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করা হতে পারে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। চলতি মাসে শুরুর দিকে দেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। তাই ট্রেনের ভাড়া বাড়াতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিতে হবে। আমরা এখনও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

তিনি বলেন, ট্রেন ও বাসের ভাড়ার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, যা ট্রেনের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। সুতরাং আমাদের ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করতে হতে পারে। কিন্তু আমরা এখনও ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ভোক্তা পর্যায়ে ৩৪ টাকা বাড়ায় সরকার। অকটেনের দাম বাড়ে ৪৬ টাকা, পেট্রোলের দাম বাড়ে ৪৪ টাকা। অর্থাৎ রাত ১২টার পর থেকে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রোল ১৩০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর শনিবার (৬ আগস্ট) বাসভাড়া সমন্বয় করে বিআরটিএ। বেড়ে যায় লঞ্চ ভাড়াও।

আপনার মন্তব্য লিখুন