ঢাকাশনিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃদ্ধাশ্রম নয়, বরং মা-বাবার জায়গা হোক সন্তানের হৃদয়ের মণিকোঠায়!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ ৪:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাহারা মিম, প্রতিদিনের বাংলাদেশঃ বৃদ্ধাশ্রম বলতে বৃদ্ধ নারী-পুরুষের আবাসস্থলকেই বোঝায়। পৃথিবীতে মা-বাবা এমন এক আশ্রয়স্থল, যার তুলনা পৃথিবীর কোনো বাটখারায় পরিমাপ করা যায় না। যায় না সেই পরম স্নেহের ওজন দেওয়া কোনো মেশিনে। সুতরাং এই মা এবং বাবা শেষ বয়সে কেন বৃদ্ধাশ্রমে?


“ছেলে আমার মস্ত বড় অফিসার,
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার,
নানা রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি,
সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি।”

নচিকেতা চক্রবর্তীর এই গানের সঙ্গে যেন মিলে যায় বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রতিটি মা-বাবার জীবনকাহিনি!

মা-বাবা না থাকলে আমরা পৃথিবীর আলোই দেখতে পেতাম না। যে মা পরম স্নেহে শত অবর্ণনীয় কষ্ট, আঘাত, যন্ত্রণা সহ্য করে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করল, আবার জন্মের পর থেকে লালনপালন করল এবং পড়ালেখা শেখানো থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপে সন্তানদের হাসিখুশি রাখতে কত না ত্যাগ স্বীকার করল; তারা চায় সন্তান বড় বা উচ্চশিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হোক, সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, হোক সম্মানিত, চিনুক সবাই। সন্তানের সাফল্যের সাথে বাবা-মার সাফল্যও যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাদের সাফল্যে নিজেকে সফল ভাবেন, হন খুশি আর পান মানসিক পরিতৃপ্তি। বাবা-মার নেই কোনো জাত, নেই কোনো অঞ্চল, নেই ভৌগোলিক সীমারেখা, নেই দেশ। পৃথিবীর সব বাবা-মার ধর্ম ও পরিচয় শুধুই বাবা-মা। যাদের স্নেহ-ভালোবাসায় নেই কোনো খাদ, নেই কৃত্রিমতা। প্রতিটি বাবা-মাই তার সন্তানকে সেই জন্মলগ্ন থেকে মায়া-মমতা আর স্নেহের পরশ বুলিয়ে তিল তিল করে বড় করে তোলেন। সেই বাবা-মায়েদেরই বৃদ্ধ বয়সে থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।
Add kgggvvg
সারা জীবন সন্তানকে নিজেদের সব টুকু উজাড় করে দিয়ে শেষ বয়সে এসে মা-বাবারা বুক ভরা আহাজারী আর চোখ ভরা কান্না নিয়ে দিনাতিপাত করেন বৃদ্ধাশ্রমে।

সম্প্রতি বরিশালে “বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যান সংস্থা” নামে একটি বৃদ্ধাশ্রমের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যেখানে ১২ জন বৃদ্ধা মায়েরা ও ১ জন বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার ছিলো আমার ১৮তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা কিছু অসহায় বাবা-মায়েদের নিয়ে এক ভিন্ন ধর্মী আয়োজন করার পরিকল্পনা মাথায় আসে এবং পরিকল্পনা মাফিক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গল্পে,গানে ও কেক কাঁটার মাধ্যমে বৃদ্ধদের সাথে আমার ১৮তম জন্মদিন উদযাপন এর মাধ্যমে তাদের গভীরে গিয়ে কষ্ট গুলো কে অনুভব করার চেষ্টা করি। তাদের অসহায়ত্ব আমাকে সেদিন অশ্রুসিগ্ধ হতে বাধ্য করেছিলো, জীবনের কি নির্মম পরিহাস সব থেকেও যেনো কিছুই নেই তাদের‌। সারাটি জীবন ধরে যত্নে-ভালোবাসায় যে গৃহ ও সন্তান তৈরি করেছেন শেষ বয়সে এসে সেই সন্তানরাই তাকে গৃহ হারা করেছেন। এর থেকে নির্মম আর কি হতে পারে?

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা কালীন সময়ে বৃদ্ধাশ্রমের মালিক সাখাওয়াত হোসেন জানান— এতদিন ধরে বহু কষ্টে এখানে থাকা জান্নাত গুলোর ভরন পোষন আমি নিজের যথাসাধ্য ভাবে চালিয়ে আসার চেষ্টা করেছি সেই সাথে অনেকে বিভিন্ন ভাবে আমাকে সাহায্য ও করেছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার পহ্মে এই জান্নাত গুলো কে চালানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে, আপনারা যদি নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে নিজেদের সাধ্যমত কিছু দান করেন তাহলে হয়তো জান্নাত গুলো কে আমি আরেকটু বেশি সুখের মুখ দেখাতে পারেবো‌।

এবং সেখানে উপস্থিত থাকা কেয়ার টেকার রা বলেন— এখানে যতগুলো জন্মদিন হয়েছে তার মধ্যে সাহারা মিম আপুর জন্মদিনে সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়েছে। আপু দীর্ঘজীবী হোক।

আমার জীবনে কাটানো শ্রেষ্ঠ সময় গুলোর মধ্যে স্মৃতির পাতায় আজীবন অন্যতম হয়ে থাকবে সেদিনের সন্ধ্যা টি।

সবশেষে, ভালো রাখুন আপনার ঘরের জান্নাত দু’টো কে তাহলেই ভালো থাকবে পৃথিবীর সকল জান্নাত গুলো‌।
সাহারা মিম/আরইসআর

আপনার মন্তব্য লিখুন