ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ এপ্রিল ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানি সংকট, বাড়ছে ডায়রিয়া!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
এপ্রিল ১৪, ২০২২ ৬:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পানির জন্য একটি নলকূপের সামনে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের নারীরা কলস ও বালতি নিয়ে ভিড় করেন। গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শ্রীঘর গ্রামে পানির জন্য একটি নলকূপের সামনে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের নারীরা কলস ও বালতি নিয়ে ভিড় করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে জেলা শহর, সদর ও নাসিরনগর উপজেলার নলকূপগুলোতে আর পানি উঠছে না। ফলে এসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। জেলার প্রধান হাসপাতালসহ দুই হাসপাতালে চলতি মাসের গত ১২ দিনে ১ হাজার ৭৭২ জন ডায়রিয়ার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টি না হওয়া ও অপরিকল্পিত সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সাধারণত পানির স্তর ২৬ ফুটের নিচে নামলে হস্তচালিত নলকূপ থেকে পানি ওঠে না। আর যদি তা ৩০ ফুটের নিচে নেমে যায়, তাহলে বাসাবাড়িতে মোটর দিয়ে পানি তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই মানুষ পুকুর, খাল, জলাশয় ও নদীর নোংরা পানি ব্যবহার করে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শিল্পকলকারখানা, কোম্পানি ও সেচসহ বিভিন্ন কাজে ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করা হয়। এসব কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার, সদর উপজেলায় ৫ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ও নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। কিন্তু পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশাল এই জনগোষ্ঠী সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে।

জানা গেছে, বিশুদ্ধ পানির জন্য পৌর এলাকায় ৪৬৫টি, সদরে প্রায় ৩৫ হাজার ও নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার নলকূপ রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাসংলগ্ন পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটের পেছনে ২১৫ ফুট গভীর একটি সাবমারসিবল বসানো হয়। তারপরও সেটি দিয়ে পানি উঠছে না। তাই সেটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। চলছে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা।

সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চলতি মাসের ১-১২ দিনে ১ হাজার ৪৭১ জন এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই সময়ে ৩০১ জন ডায়রিয়ার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় প্রথম আলোকে বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার অনেক নলকূপে পানি আসছে না। সুপেয় পানির অভাবে পুকুর, খাল ও বিলের পানি পরিশোধন না করে লোকজন পান করছেন। তাই ডায়রিয়ায় প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী অপু মিয়া ও সহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, পৌর শহরে পানির স্তর ছিল ২০ থেকে ৩০ ফুটের মধ্যে। কিন্তু পানির স্তর (স্থিতাবস্থা) সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ ফুটে নেমেছে। কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হলে পানির স্তর ওপরে আসবে। তখন সংকট কেটে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত গভীর পাম্প রয়েছে ৩৫১টি, অগভীর পাম্প ১০ হাজার ৭২৮টি, নিম্ন গভীর পাম্প ১ হাজার ২৬২টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় গভীর পাম্প রয়েছে ১০টি ও অগভীর পাম্প ১ হাজার ৮৫৯টি, নিম্ন গভীর (এলএলপি) পাম্প ৩৩৩টি এবং নাসিরনগরে গভীর পাম্প ২৬টি, অগভীর পাম্প ৭৮৫টি ও এলএলপি ৫০৫টি। জেলায় মোট এলএলপি রয়েছে ৩ হাজার ৮০২টি।

গত সোমবার জেলা শহরের কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া এবং গত মঙ্গলবার নাসিরনগর উপজেলার বনিকপাড়া, মহাকালপাড়া ও বুড়িশ্বরের শ্রীঘর গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক নলকূপ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। শ্রীঘর গ্রামের নূরুন্নেছা
বেগম, আবুল কালাম, অভি রহমান, ইদ্রিস আলী ও সজল মিয়াসহ ১৫ জনের বাড়ির ১৮০ ফুট গভীরের নলকূপের সব কটির একই অবস্থা। পানি আসে না।

গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে নাসিরনগরের শ্রীঘর গ্রামের ছোট মিয়ার বাড়ির নলকূপের সামনে অর্ধশতাধিক শিশু, কিশোরী ও নারীকে পানির জন্য কলস ও বালতি নিয়ে ভিড় করতে দেখা গেল। স্বাস্থ্যকর্মী জুলহাস শাহসহ অন্তত ৩০ জন নারী বলেন, ‘গ্রামে আমরার দুই শ পরিবার। কিন্তু আমরার কল (টিউবওয়েল) দিয়া পানি আয়ে না। তাই সবাই এই কলে আইছি। ইফতারের সময় ভিড় আরও বেশি থাকে। কলের পানি খাই। আর পুকুর ও ডোবার পানি দিয়া অন্য কাজ করি। তিন-চারটা মাস পানির লাইগ্যা কী যে কষ্টের মধ্যে আছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান তালুকদার বলেন, শিল্পকলকারখানা, কোম্পানি ও সেচসহ বিভিন্ন কাজে ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করা হয়। এসব কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ৩০-৩৫ ফুট থাকে। বৃষ্টি হলে সংকট কেটে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন