ঢাকাসোমবার , ৭ জুন ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাধবপুরে বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা-গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুন ৭, ২০২১ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।। চলতি বছরের আগাম বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা-গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। প্রাণ ফিরে পেয়েছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা-বাগান। আগাম বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার সবগুলো চা-বাগানে চায়ের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে চা-শ্রমিকেরা দ্রুত কাটিং (ছাঁটাই) কাজ করায় আগাম বৃষ্টি উপকারী হয়েছে চা-গাছগুলোর জন্য। গত সপ্তাহে ৩-৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হয়। ফলে এ বৃষ্টি উপযুক্ত সময়ে হওয়ায় চা-গাছে আগেভাগেই গজাচ্ছে নতুন কুঁড়ি। এই বৃষ্টি রবিশস্যের জন্য কিছুটা ক্ষতির কারণ হলেও চা-বাগানের জন্য তা খুবই প্রয়োজনীয়।

জানা যায়, ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস থেকেই প্রতিটি চা-বাগানে করা হয়েছিল চা-গাছগুলোকে ছাঁটাইয়ের (কাটিং) কাজ। টানা ৪ মাস পর এখন মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাতের ফলে কাটিং করা গাছে কুঁড়ি গজাতে শুরু করেছে। আর চা-পাতার কুঁড়ি আগে গজানোয় আগে পাতা তোলা শুরু হবে। জগদীশপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সনদ কুমার দত্ত বলেন, চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রধানত যে জিনিসটির প্রয়োজন তা হলো বৃষ্টি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় কাটিং করা গাছগুলো বৃষ্টির পানি পেয়ে আগে-ভাগে কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করে। এতে এ বছর চায়ের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ চা-বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে দেশের ১৬৬টি চা-বাগানে ৫ কোটি ২১ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদন। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার কেজি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ কেজি চা বেশি উৎপাদন হয়। এর আগে ২০১৭ সালে ১৫০ বছরের চায়ের ইতিহাসে প্রথম সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। তখন বছরজুড়ে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় ছিল। তবে এই উৎপাদনের ধারা ধরে রাখতে না পারায় ২০১৭ সালে চা উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ৮৯ লাখ কেজিতে। গত তিন বছর চায়ের গড় উৎপাদন ছিল ৮ কোটি ২০ লাখ কেজি। বর্তমানে দেশে ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। ২০১২ সালে হয়েছিল ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে। বিশ্বে চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন নবম স্থানে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে ছিল দশম স্থানে। আর ২০১৫ সালে ছিল ১২তম স্থানে। ২০২০ সালে চায়ের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫.৯ মিলিয়ন কেজি। করোনার প্রতিকূলতার মাঝেও উৎপাদন দাঁড়ায় ৮৬.৩ মিলিয়ন কেজিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন কেজির বেশি। তবে এ উৎপাদন ২০১৯ সালের উৎপাদন থেকে ৯.৬৮ মিলিয়ন কেজি কম। এবার চলতি মৌসুম ২০২১ সালের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭.৭৮ মিলিয়ন কেজি।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর সুরমা চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন খান লিটন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে চা-বাগান প্ল্যান্টেশন এলাকায় পাইপ লাইনে ইরিগেশনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে থাকি। এতে খরচ বেড়ে গেলেও চা-গাছ ঠিক রাখতে এ ব্যয় বহন করতে হয়। আগাম বৃষ্টির ফলে এ বছর চায়ের উৎপাদন আরও ভাল হবে।

এ সম্পর্কে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, আগাম বৃষ্টি চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজে আসবে। চলতি মৌসুমে ৩৫.৭৮ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও খরার কবলে না পড়লে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৪৩ মিলিয়নের অধিক চা-পাতা উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। জগদীশপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সনদ কুমার দত্ত বলেন, চা বাগানে বালিযুক্ত দোআঁশ মাটি হওয়ায় পানি অনেক দিন ধরে রাখতে পারে না। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চা বাগান হাস্যোজ্জ্বল মুখর হয়ে থাকে। সময়মত বৃষ্টিপাত না হলে কৃত্রিম ভাবে পানি দিলেও বৃষ্টিপাতের মতো অনেক কার্যকর হয় না। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত হওয়ায় আশানুরুপ চা পাতা উত্তোলন হবে বলে আমাদের ধারনা।

আপনার মন্তব্য লিখুন