ঢাকামঙ্গলবার , ৩০ আগস্ট ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে আমানা সিটির বাণিজ্য, ধানের জমিতে আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রি!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আগস্ট ৩০, ২০২২ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজশাহীর একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রী। বৃদ্ধ বয়সে একটি সুখের নীড় করবেন রাজশাহীতে। তাই রকমারি বিজ্ঞাপন দেখে ছুটে গেছেন ‘উত্তরায়ন আমানা সিটি’র সাগরপাড়া অফিসে। সেখানে গিয়ে প্রলোভনে পড়ে নিজের নামে একটি প্লট বুকিং নিয়েছেন।

রাজশাহী সিটি বাইপাশ হাটের পাশের বিলটিতে ‘উত্তরায়ন আমানা সিটি’র আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হবে সেখানেই একটি প্লট দেওয়া হবে বলে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে তাঁর নিকট থেকে। কিন্তু জমির পরিমাণ কত সেটি উল্লেখ করা হয়নি।
সরেজিমন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর সিটি বাইপাশ হাটের নিচের এই বিলে রয়েছে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি। এর মধ্যে বাইপাশ হাটের পাশে সিটি হাটের অংশটি জমি মালিকদের নিকট থেকে বন্ধক নিয়ে গরুর হাট করা হয়েছে। সেখানে গেছে প্রায় ১০০ বিঘা জমি। বাকি অংশের জমিতে এখনো ধান চাষ করেন জমি মালিকরা। এর একটি অংশে গত কয়েকদিন ধরে জমি ভরাট করা হচ্ছে। তার পাশেই রয়েছে মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি বিঘা দেড়ে জমি।
মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার এই জমিতেই নাকি আবাসিক এলাকা হবে? অথচ আমিই জানি না। আমার মতো শত শত জমি মালিকই জানেন না এখানে কারা আবাসিক এলাকা গড়ে তুলবেন। আমাদের জমিতে আবাসিক এলাকা হবে জমি না কিনেই। এমনকি কেউ যোগাযোগ না করেই। এটা কেমন কথা?’
ওই বিলের আরেক জমির মালিক মশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার জমি আছে দুই বিঘা। কিন্তু আমি তো এই জমি বিক্রি করবো না। তাহলে এখানে আবাসিক এলাকা কিভাবে হবে? অথচ শুনছি আমাদের জমি বিক্রি করছে আমানা গ্রুপের লোকজন। এটা কেমন জালিয়াতি বুঝতে পারছি না।’

নওদাপাড়া এলাকার নান্নু নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, এই বিলে আমার বাবার সম্পত্তি আছে এক বিঘার একটু বেশি। আমি এই জকমিতে ধান চাষ করি। এখনো জমিতে আমন ধান আছে। আমার বাবা বেঁচে আছেন। কিন্তু আমার বাবা জমি বিক্রি করেননি। তাহলে আমাদের জমি কিভাবে ওরা বিক্রি করছে? আমাদের জমিতে আমরা প্লট করবো কিনা সেটি আমরা সিদ্ধান্ত নিব। অন্য মানুষ এখানে চাইলো আর প্লট করলো, তাতো হতে পারে না।’
এদিকে অনুসন্ধানে গেছে গেছে, উত্তরায়ন আমানা সিটি নামের কথিত ওই আবাসিক এলাকায় জমি কিনেছেন এটি এম সারোয়ার হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি। তাঁকেও একটি প্লট দেওয়ার নামে উত্তরায়ন আমানা সিটি লিমিটেডের এক লাখ টাকা নিয়ে একটি রশিদ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটির অথোরাইজড কর্মকর্তা সাফিন সরকার টাকাটা বুঝিয়ে নিয়ে স্বাক্ষর দিয়েছেন। সেক্টর নম্বর -১, প্লট নম্বর-১, রোড-বি/৭ এর নামে একটি প্লট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানেও জমির পরিমাণ কত, সেটি উল্লেখ করা হয়নি।
এভাবে কথিত ওই আবাসিক এলাকায় অন্তত দেড় শ মানুষের কাছে প্লট বিক্রির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্লট বুকিং নেওয়া সালেহা খাতুন জানান, জমির পরিমাণ কতটুকু দিবে জানি না। তবে ওরা বলেছে ৩ কাঠা দিবে। আমি কয়েকটি প্লট বুকিং দিছি। কবে জমি পাবো জানি না। জমি দেখতেও পাইনি। বুকিং দিয়ে রেখেছি, বাকিটুকু আল্লাহ ভরসা।’
এদিকে সিটি বাইপাশ হাটের এই বিলের জমিতে কোনো আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে কিনা জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথোরাইজড কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের কাছে এই ধরনের কোনো তথ্য নাই। এই ধরনের আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার আগে আমাদের নিকট থেকে আগে অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু এইরকম অনুমোদনের আবেদন আছে বলে জানা নাই।’
Add kgggvvg
জানতে চাইলে উত্তরায়ন আমানা সিটির’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগোযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকায় থাকেন বলে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির রাজশাহী অফিসের ইনচার্জ সাফিন সরকার বলেন, আমরা ওখানে বিশালাকার আবাসিক এলাকা গড়ে তুলবো। যার আয়তন হবে অন্তত তিন দুই বর্গকিলোমিটার। তাই প্লট বরাদ্দ দিচ্ছি। আমরা আবাসিক এলাকার জন্য জমি মালিকদের নিকট থেকে কতটুকু জমি কিনেছি সেটি তো আপনাকে বলা যাবে না। আমরা কিভাবে সেখানে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলবো জিম কিনেছি কিনা সেটি আমরা জানি।’
সুত্রঃ সিল্কসিটি

আপনার মন্তব্য লিখুন