ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ জুলাই ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালমনিরহাটে স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে গণহারে বদলির আবেদন!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই ২১, ২০২২ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাটঃ কর্মস্থলকে অনিরাপদ দাবি করে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭জন কর্মচারী গণহারে বদলির আবেদন করেছেন।

বুধবার(২০ জুলাই) সন্ধায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়।

আবেদনকারীরা হলেন, আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী মাহবুব আলম লিকু, পরিসংখ্যানবিদ আসাদুরজামান, হারবাল সহকারী ইসমত আরা, জুনিয়র মেকানিক পুতুল চন্দ্র রায়, অফিস সহকারী মাইদুল ইসলাম, শফিক আহমেদ ও প্রমথ চন্দ্র রায়।

গণবদলির আবেদন সুত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭জন কর্মচারী রয়েছেন। সরকারী কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি পদে পদে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছেন কর্মচারীরা। সরকারী নিয়মের বাহিরেও জোর পুর্বক কিছু অবৈধ কার্যক্রম করাতে বাধ্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ। কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানেও নানান ভাবে হয়রানী ও জঠিলতা তৈরী করেন। যার প্রতিবাদ করলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অকথ্যভাষায় গালমন্দ আর বেতন কর্তনের হুমকী দেন। সাম্প্রতিক সময় দুইজন কর্মচারীর বেতন অহেতুক ১০ মাস আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

শুধু কর্মচারী নয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের নিম্নমান, ও অতিরিক্ত রোগী দেখিয়ে সরকারী ওষুধ ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুই মাস আগে সাধারন রোগীরা একটি গণপিটিশন দাখিল করেছিলেন। যা ক্ষমতার জোরে লাল ফিতায় আটকিয়ে রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এ ছাড়াও নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাম্প্রতিক সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বদলি করেন। যা টাকা আর ক্ষমতার জোরে বালিত করেছেন ডা. তৌফিক। সাম্প্রতিক সময় স্থানীয়রা তার অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলদি দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবরে গণপিটিশন দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।

এসব কারনে কর্মস্থলকে অনিরাপদ দাবি করে গত ১৯ জুলাই অফিসের ৭জন কর্মচারীর সকলেই সিভিল সার্জন বরাবরে ই-মেইলে গণবদলির আবেদন করেন। যা মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সিভিল সার্জনের দৃষ্টিগোচর হয়। গণবদলির বিষয়টি নিয়ে গোটা স্বাস্থ্য বিভাগে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদের বিধিবর্হিভুত কাজের প্রতিবাদ করায় বাবা মা তুলে গালমন্দ করেন। এমন আচরন তিনি সকল কর্মচারীর উপরে নিত্যদিনেই করে থাকেন। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারী কর্মকর্তা তার আচরনে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। কর্মচারীদের পারিশ্রমিক মাসিক বেতনেও ভাগ বসান এ কর্মকর্তা। তিনি আসার পর থেকে হাসপাতালটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। যার প্রতিবাদ করলে সরকারী কর্মকর্তার আচরন বিধিলঙ্ঘন করে অশালিন আচরন করেন। এ কারনে চাকুরী করা অনিরাপদ ভেবে তারা গণবদলির আবেদন করেছেন।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদের সেলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, গণবদলিই শুধু নয়, আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তৌফিক আহমেদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবরে একটি গণপিটিশন দাখিল করেছেন। যার অনুলিপি পেয়েছি। গণবদলির বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে একসঙ্গে বদলি করলে অফিসের কার্যক্রমে বিঘ্নঘটতে পারে। সব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন