ঢাকাসোমবার , ১৫ মে ২০২৩
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালমনিরহাট রেলওয়ে আরএনবি’র ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময় চোরাই মালসহ আটক খালাসীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মে ১৫, ২০২৩ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!


আসাদুল ইসলাম সবুজ ॥ লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে রাতারাতি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময় চোরাই মবিলসহ আটক খালাসী তাহের মিয়াকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরএনবি ও রেলওয়ে কর্মচারীর মাঝে ষ্টেশন এলাকায় নানান আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
লালমনিরহাট রেল ষ্টেশনের মাষ্টার নজরুল ইসলাম জানান, ৬মে, সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা রেলওয়ের ষ্টোরভ্যানটি লালমনিরহাট রেল ষ্টেশনে রাত ৮.২৮ মিনিটে প্রবেশ করেন। পরর্বতীতে ১১মে সকাল ৬.১৫ মিনিটে ষ্টোরভ্যানটি লালমনিরহাট থেকে সান্তাহারের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। উক্ত ষ্টোরভ্যানের মালামালের দায়িত্বে ছিলেন, এসবিসি মমিনুল ইসলাম ও খালাসী তাহের মিয়া এবং আঃ করিম।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবি’ও সুত্র জানান, ৬মে সন্ধ্যা ৭টায় শ্যামপুর রেল ষ্টেশনের কাছে ষ্টোরভ্যান থেকে ৪ ড্রাম মবিল চোরাইভাবে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। ওই সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র হাবিলদার জহুরুল ও সিপাহী সাফায়েত রেলওয়ের চোরাই মবিলসহ খালাসী তাহের মিয়াকে আটক করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র লালমনিরহাটের জেনারেল শাখায় চোরাই মবিলসহ খালাসী তাহের মিয়াকে প্রেরণ করেন।

এরপর রেলওয়ে বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেনের সাথে শুরু হয় খালাসী তাহের মিয়াকে ছেড়ে দিতে রফাদফা। এক পর্যায় গভীর রাতে অফিসার ইনচার্জের ইলিয়াস হোসেনের সাথে এসবিসি মমিনুল ইসলাম ও খালাসী আঃ করিম এর ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা রফাদফা করা হয়। ওই সময় আরো ২/৩জন রেলকর্র্মচারী আশপাশে অবস্থান করছিলেন। রফাদফার আলোচনা শেষে রাত ২টার ১ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন। বাকী ৫০ হাজার টাকা সকালে দিতে চাইলে, অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন খালাসী তাহের মিয়াকে ছাড়তে নারাজ হয়ে বলেন, আমার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ জানেন। আমি বাকিতে ছাড়তে পারবো না।

অবশেষে পরেরদিন সকাল ৮টায় বাকী ৫০ হাজার টাকা বিনিময় শেষে খালাসী তাহের মিয়া মুছলেকা দিয়ে রক্ষা পেলেও শেষ রক্ষা হয়নি ৪ ড্রাম চোরাই মবিলের। অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন চোরাই মবিল বিক্রি করেছেন কালোবাজারে। যার বিভিন্ন কথপোকথন অডিওর ক্লিপ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কারণে ওইরাতে অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন সারারাত অফিসে ছিলেন। (৬ মে রাত থেকে ৭ মে সকাল পর্যন্ত) তার মোবাইল নম্বর ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে প্রমাণ মিলবে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুকে একজন রেলওয়ের ট্রেন চালক জানান, ৬মে সন্ধ্যা ৭টায় শ্যামপুর রেল স্টেশনে চোরাই মবিলসহ খালাসী আটক হয়েছিল। ৭মে সকাল সকাল অফিস না খুলতে কিভাবে বৈধ কাগজ তৈরি হল। আর যদি বৈধ কাগজ ছিল, তাহলে তখনে দেখাতে পারতো। ইলিয়াসের কাছে সব টাকার খেলা। অবৈধ মাল দেড় লাক্ষেই বৈধ হয়ে গেল। গভীর রাতে অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেনের সাথে তার অফিস কক্ষে বসে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা রফাদফা করা হয়েছে। এমনকি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে দ্রুত টাকা আদায় করেন।

অপর একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানান, শুধু তাই এই অনিয়ম নয়, লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসার ইনচার্জ হিসেবে ইলিয়াস হোসেন যোগদানের পর থেকে বেশ অনিয়ম দুর্নীতি করেই যাচ্ছে। বছরের পর বছর একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করায় তার অনিয়মের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। তার এসব অনিয়ম আরএনবি সকল সদস্যরা জানেন। বলতে গেলে দুরে বদলীর ভয়ে কেউ কোন বলতে সাহস পান না। পৃথক পৃথক ভাবে আরএনবি সকল সদস্যদের সাথে কথা বললে তার অপকর্মের সকল প্রমান মিলবে।

এছাড়াও ইতিপূর্বে ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় “লালমনিরহাট নিরাপত্তা বাহিনীতে ডিউটি নিতে ঘুষ” শিরোনামের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। “আরএনবি সদস্যদের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানে ঘুষ” “বাড়িতে থেকে ডিউটি না করে ঘুষ দিলে সঠিক ভাবে হাজিরা খাতায় উঠে যায় ডিউটি” “যারা ট্রেনে ডিউটি করেন তাদের দিতে হয় ইলিয়াস হোসেনকে নিয়মিত কমিশন” এসব সংবাদের সাক্ষী আজও গুগল তার বুকে লালন করছেন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র হাবিলদার জহুরুল বলেন, আমি শ্যামপুর ষ্টেশনে ষ্টোরভ্যানের মালগুলো চোরাই ভাবে বিক্রির সময় একজন খালাসীকে আটক করেছি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র লালমনিরহাটের জেনারেল শাখায় চোরাই মবিলসহ খালাসী তাহের মিয়াকে প্রেরণ করেছি। তারপর কি হল আমি জানি না।

১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চোরাই মালসহ আটক খালাসীকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, ওই ষ্টেশনে ষ্টোরভ্যান থেকে মাল নামানো হবে। সেই মোতাবেক কিছু মালসহ খালাসী তাহেরকে আটক করা হয়। পরে মালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারায় খালাসীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাতে অফিস বন্ধ থাকে তাহলে কিভাবে সৈয়দপুর থেকে ভোরে বৈধ কাগজ পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস হোসেন নিরবতা পালন করেন।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, খালাসী কিছু মালসহ আটকের বিষয় আমি জানি। পরে বৈধ কাগজপত্র দেখায় তার মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে টাকা নেয়া বিষয় আমি কিছু জানি না। এমন প্রমাণ থাকলে আমাকে দিতে পারেন। আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

আপনার মন্তব্য লিখুন