ঢাকারবিবার , ৮ জানুয়ারি ২০২৩
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকল্পের ৮কোটি টাকার হদিস নেই!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জানুয়ারি ৮, ২০২৩ ৫:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক,লালমনিরহাট,হতদরিদ্র/অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের ৮ কোটি টাকা’র একটি বিশেষ প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোথায়, কিভাবে এই প্রকল্পের টাকা ব্যয় করা হয়েছে বা উপকারভোগি কারা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারছেনা প্রকল্প অধিদপ্তর বা বাস্তবায়ন কারী সংস্থা।

অতি দরিদ্রদের নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যম কর্মমূখী করা-শীর্ষক এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছিলেন আদিতমারী -কালীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এই প্রকল্পটির বিপরীতে এক পক্ষের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় রাজনৈতিক বিবেচনায় নামমাত্র কিছু মানুষকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুবিধা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছিল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ মতিনকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন “পুষ্প বাংলাদেশ” নামের রংপুরের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এম এ মতিন একাই প্রকল্পটি দেখভাল করেন। লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে কোন তথ্যই নেই লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরে।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশান আলী মণ্ডল এ বিষয়ে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন উপকার ভোগী কারা, কীভাবে প্রকল্পের টাকা ব্যয় করা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো তথ্যই আমাদের জানা নেই।

কালীগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় আমাদের কোনো প্রকার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রকল্প পরিচালক নিজেই এটি মনিটর করেছিলেন, তাই আমরা এবিষয়ে কিছুই জানিনা।

“পুষ্প বাংলাদেশ” প্রকল্পের একজন উপকারভোগী পাটগ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল হতদরিদ্র/অতিদরিদ্র মানুষের। কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ এবং গবাদি পশুপালনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের মাধ্যমে। কিন্তু অতিদরিদ্রদের কেউই এই সুবিধা পাননি। তিনি আরও বলেন, গোপনে কিছু মানুষকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থার লোকজন তরিঘরি রাতা-রাতি পালিয়ে যায়। আমরা এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আজও এর সমাধান পাইনি।

এদিকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা “পুষ্প বাংলাদেশ” এর নির্বাহী পরিচালক নিশাত জাহান বলেন, এই প্রকল্পের কোনো তথ্যই আমাদের কাছে নেই। সব তথ্য আছে সমাজসেবা অধিদপ্তরে। তিনি আরও বলেন, উপকার ভোগীদের নামের তালিকা থেকে শুরু করে আর্থিক সহযাগিতা প্রদানের সবকিছু করেছিলেন প্রকল্প পরিচালক এম এম মতিন। আমরা কেবল প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম।

প্রকল্প পরিচালক এম এ মতিন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার উপকারভোগী প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। উপকারভোগীদের নামের তালিকা আছে বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কেবল সার্বিক বিষয় মনিটরিং করেছিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন