ঢাকাবুধবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম!

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পণ্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে কয়েকটি সিন্ডিকেটের কারণেই মূলত প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। দাম হাতের নাগালে না থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবন-ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, মিলারদের কারসাজিতে চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। কিছু কিছু মিলার ভরা মৌসুমে চাল মজুত করছেন। অন্যদিকে মিলারদের কাছ থেকে সরকার চাল সংগ্রহ করার কারণে খোলা বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। নগরীর চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, চালের বাজার এখন চড়া হওয়ার কথা নয়, কিন্তু মিলারদের কারসাজির কারণে তাই হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহণ ভাড়া বাড়ার প্রভাবও পড়েছে চালের বাজারে।

নগরীর দুই প্রধান চালের আড়ত চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম বস্তায় সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি ধানের দামও বেড়েছে। ফলে চালের বাজার বেশ চড়া।

চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা। ভারতীয় ভালোমানের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দামে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা দারে। ভালো মানের পেঁয়াজ কয়েক মাস আগেও ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, প্রথম দিকে বলা হয়েছিল ভারতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দেশটিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। কিন্তু প্রায় ৪০ শতাংশের মতো পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়। দেশটিতে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যা হয়নি। সেখানে দামও বাড়েনি। কম দামে মিয়ানমার থেকে কেনা পেঁয়াজও পাইকারি বাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে। সূত্র মতে, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের চারটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র রয়েছে। তারা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজও এখন সিন্ডিকেটের কবলে পড়ার কারণে বেড়েছে দাম।

আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে মসুর ডালের। দুই মাস আগে ২০ টাকা বেড়েছিল মসুর ডালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও ১০ টাকা বেড়েছে এই পণ্যটি। আমদানি করা মসুর ডালের কেজি এতদিন ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। আর দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। যা এতদিন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি করা ডালের দাম বাড়ানোর কারণে পাল্লা দিয়ে দেশি ডালের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বৃহত্তর পাইকারি মার্কেট হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘চট্টগ্রামে পেঁয়াজের সংকট নেই। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজও আসছে প্রচুর। ভারতীয় রফতানিকারক, ব্যবসায়ী ও মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে ভরা মৌসুমেও কমছে না শীতকালীন সবজির দাম। ৪০ টাকা নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে শীতের সবজির সরবরাহে ঘাটতি নেই। তবুও আগের বাড়তি দরে প্রতি কেজি টমেটো ৪০ থেকে ৪৫, শিম ও বেগুন ৪০ থেকে ৫০, ফুলকপি ৩০, গাজর ৪০, শসা ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত সপ্তাহে ৯৫ টাকায় ডজনপ্রতি বিক্রি হওয়া ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার ২৪০, সোনালি ২৮০ থেকে ৩০০ ও দেশি মুরগি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ। প্রতি কেজি রুই-কাতলা ২৮০ থেকে ৩০০, শোল ৫৫০, শিং ও টাকি ৩৫০, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন