ঢাকাসোমবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরগঞ্জে ৪ পুলিশ হত্যার ৯ বছর আজ: কবে শেষ হবে বিচার কাজ?

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় চার পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা অগ্নিকাণ্ড-লুটপাট আর নারকীয় তাণ্ডব চালায় সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

এসময় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হক, নজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হযরত আলীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার প্রতিবাদ করায় গংশারহাটে এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের জিহ্বা কেটে ও চোখ উপড়ে ফেলে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৮৯ জনের নামীয় ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয় হাজার জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি জামায়াত নেতা আবদুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ অধিকাংশ আসামিরা পলাতক। আবদুল আজিজ মানবতাবিরোধী অপরাধেও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া এ মামলায় পুলিশ দুই শতাধিক আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠালেও বর্তমানে তারা সবাই জামিনে আছেন।

কবে শেষ হবে বিচার কাজ?
আলেচিত এই মামলার নয় বছরেও বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ স্থানীয় এবং নিহতদের স্বজনরা। দ্রুত মামলার বিচার শেষ করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানে আন্তরিকতার অভাবে এই মামলার দীর্ঘসূত্রিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সর্বানন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আরিফুল ইসলাম রাসেলের। তিনি বলেন, মামলার অনেক সাক্ষীই নানা অজুহাতে আদালতে সাক্ষী দিতে যাচ্ছেন না। এ কারণে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে আলোচিত এই মামলার বিচার কাজ দ্রুত নিস্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

তবে সাক্ষী গ্রহণে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক না থাকায় মামলার বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স।

তিনি বলেন, মামলার মোট ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে মাত্র ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এছাড়া বিচারক বদলি হওয়ায় মামলার কার্যক্রম দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিল। তবে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ায় বর্তমানে মামলার বিচার কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি এ বছরেই মামলার বিচার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে এবং নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

আদালতে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আদালতে তিন পুলিশ সদস্য সাক্ষী দিয়েছেন। এছাড়া মামলার স্থানীয় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য তারিখে আদালতে তাদেরকে হাজির করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আমরা মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, দ্রুতই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষের মাধ্যমে মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে।’ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের রায়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হবে বলেও আশা করেন তিনি।


এদিকে, স্থানীয়রা এই দিনটিকে ‘সুন্দরগঞ্জ ট্র্যাজেডি’র দিবস হিসেবে স্মরণ করে আসছে। এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ। এছাড়া নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের নিজ বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ/প্রতিদিনের বিডি

আপনার মন্তব্য লিখুন