ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জুলাই ২০২১
  1. Covid-19
  2. অপরাধ ও আদালত
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ডেস্ক
  6. কৃষি ও অর্থনীতি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. নির্বাচন
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. ভিডিও গ্যালারী
  15. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেই জখমী শতবর্ষি বুদ্ধা আলেমা বেওয়ার পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই ২০, ২০২১ ৮:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আশরাফুল হক, লালমনিরহাট।। ত্রাণের স্লিপ চেয়ে চেয়ারম্যানের স্ত্রীর গলা ধাক্কায় জখমী শতবর্ষি বুদ্ধা আলেমা বেওয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। মঙ্গলবার(২০ জুলাই) বিকেলে বৃদ্ধার বাড়ি গিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন ইউএনও।

এর আগে সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল উপজেলার পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীর বাড়িতে স্লিপ চেয়ে গলা ধাক্কায় গুতর জখম হন বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া(৯৫)। আহত বৃদ্ধা উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী ও রিকশাচালক নুরুজ্জামানের মা।
জানা যায়, অতি দরিদ্র আলেমা বেওয়া রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে ভাঙ্গা ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করেন। সম্প্রতি করোনার লকডাউনে রিকশাচালক ছেলের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় নিদারুন অর্থ কষ্টে পড়েন পরিবারটি। চারদিন আগে পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধা আলেমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি গ্রহণ করেন।
সেই ত্রাণ নিতে সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন চেয়ারম্যান। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চলে যান। তখন চেয়ারম্যান তার বাড়িতে রাখা স্লিপ নিয়ে আসতে বললে বৃদ্ধা পরিষদের পাশে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে দুপুর পর্যন্ত স্লিপের জন্য অপেক্ষা করেন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা। এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে চেয়ারম্যান বাড়িতে চলে আসলে স্লিপ দাবি করেন বৃদ্ধা। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তার (১৯) বৃদ্ধা আলেমাকে গলা ধাক্কা দিলে ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা মেঝেতে পড়ে যান। এসময় তার দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে এবং হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। বিপদ দেখে দ্রুত পল্লী চিকিৎসক নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান। মায়ের অসুস্থতার খবরে রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধা আলেমাকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঈদের কারনে ওই দিন রাতেই ছাড় পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেন বৃদ্ধা। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান শওকত আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার বিকেলে জখমী বৃদ্ধা আলেমা বেওয়ার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে তার বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। এ সময় তিনি ঈদের উপহার স্বরুপ বৃদ্ধার হাতে ৩হাজার টাকা তুলে দেন। আগামীতে প্রয়োজনে আরও সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া বলেন, এত্ত বড় অপিছার মোর ভাঙ্গা ঘরোত আসিয়া টাকা দিবে স্বপ্নেও ভাবি নাই। রাত পোহালে ঈদ। টাকাটা খুব উপকার হইবে বাহে। আল্লায় এ অপিছারকে মেলা দিন বাঁচি রাখপে। আল্লায় ওমার(ওনার) মঙ্গল করবে। তার উপর অন্যায়ের ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, বৃদ্ধা আলেমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে। তারা তদন্ত করছে। বৃদ্ধাকে ঈদ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আপাত আর্থিক সহায়াতা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন